বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই হোয়াইট হাউস নতুন নাম সম্বলিত হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যেহেতু বর্তমানে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাই এর নাম পরিবর্তন করা উচিত। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, আমেরিকার মতোই এই প্রণালিটিও আগের চেয়ে আরও ‘উষ্ণ’ হয়ে উঠবে।
পারস্য ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী এই সমুদ্রপথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে এখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১০টি। যুদ্ধের আগে ১০ দিনের গড় হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১৩টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
ইরান ও আরব উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। গত রোববার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে, যার আগে এক মাসের বেশি সময় ধরে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতি’ ছিল। এই উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ পার হওয়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এমন অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প প্রণালির নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাবটি দিলেন। যদিও এটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি সিদ্ধান্ত নয়, তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রাকৃতিক জলাশয়ের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই আগ্রহ নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের কিছুদিন পরই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিক উপসাগর’ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে গত জুলাই মাসে তিনি কানাডার অন্টারিও প্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মধ্যবর্তী অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি তার নাম পরিবর্তনের তালিকায় যুক্ত হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একটি সৌদি আরব।