1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নিউইয়র্কের স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে উত্থাপন বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ও এক পথচারী তাজমহলের নেপথ্যে: মমতাজ মহলের জীবন ও প্রসবকালীন জটিলতার করুণ ইতিহাস বাফুফের লিগ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে নতুন প্রাণের সঞ্চার, সুযোগ পেলেন প্রায় ১০০ ফুটবলার চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জিডি ফেনীতে বাস ও কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে ঝরল তিন প্রাণ কাতারের এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা: চড়া দামের স্পট মার্কেটে ঝুঁকছে বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

তাজমহলের নেপথ্যে: মমতাজ মহলের জীবন ও প্রসবকালীন জটিলতার করুণ ইতিহাস

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৬৩১ সালের ১৭ জুন। দাক্ষিণাত্যের বুরহানপুরে তখন প্রচণ্ড গরম। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল সেই উত্তপ্ত পরিবেশে চতুর্দশ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে চরম প্রসববেদনার শিকার হন। ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে এই রাজদম্পতির ১৩টি সন্তান ছিল, যাদের মধ্যে সাতজন শৈশবেই মারা গিয়েছিল। এবারও প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইতিহাসবিদ সুপ্রিয়া গান্ধী তার ‘দ্য এম্পেরর হু নেভার ওয়াজ: দারা শিকোহ ইন মুঘল ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তৎকালীন মুঘল হাকিমরা গ্রিক চিকিৎসক গ্যালেনের তত্ত্ব অনুযায়ী মানবদেহের চার ধরনের তরলের ভারসাম্যের ওপর স্বাস্থ্য নির্ভর করে বলে মনে করতেন। মমতাজ মহলের ক্ষেত্রে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। টানা ৩০ ঘণ্টা প্রসববেদনার পর তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রাখা হয় গওহর আরা। কিন্তু এরপরই প্রচুর রক্তক্ষরণে সম্রাজ্ঞীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে পোস্টপার্টাম হেমোরেজ হিসেবে পরিচিত।

মৃত্যুপথযাত্রী মমতাজ মহল তার কন্যা জাহানারাকে ডেকে সম্রাট শাহজাহানকে তার শিয়রে নিয়ে আসতে বলেন। সম্রাট তখন তার সন্তানদের এবং মমতাজের মাকে নিজের তত্ত্বাবধানে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ৩৮ বছর বয়সে প্রসবজনিত জটিলতায় মমতাজ মহলের মৃত্যু হয়। ১৬১২ সালে শাহজাহান ও আরজুমান্দ বানু বেগমের (মমতাজ মহল) বিয়ে হয়েছিল। ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি প্রায় প্রতি বছরই গর্ভবতী ছিলেন, যা তার স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

মমতাজ মহল কেবল সম্রাটের স্ত্রী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন শাহজাহানের প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা। রাজদরবারের ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি সম্রাটের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাকে রাজমোহর ব্যবহারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। তার বিশ্বস্ত সহকারী সতি-উল-নিসা নারীদের আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করতেন এবং মমতাজ মহলের অনুমোদনের পর সেগুলো সম্রাটের কাছে উপস্থাপন করা হতো। এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তার মতামত নেওয়া হতো।

অ্যালিসন ব্যাংকস ফাইন্ডলির ‘নূরজাহান: এমপ্রেস অব মুঘল ইন্ডিয়া’ বই থেকে জানা যায়, শাহজাহান মমতাজ মহলকে বার্ষিক ১০ লাখ রুপি ভাতা প্রদান করতেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সামরিক অভিযানেও স্বামীর সঙ্গী হতেন। বুরহানপুরে বিদ্রোহ দমনের সময়ও সম্রাজ্ঞীর জাঁকজমকপূর্ণ শিবির সম্রাটের খুব কাছেই স্থাপন করা হয়েছিল।

মমতাজ মহলের মৃত্যুতে সম্রাট শাহজাহান গভীরভাবে শোকাহত হন। ইতিহাসবিদ আবদুল হামিদ লাহৌরি ‘পাদশাহনামা’য় লিখেছেন, সম্রাটের হৃদয়ের আয়না অশ্রুর আর্দ্রতায় ম্লান হয়ে গিয়েছিল। শোকের চিহ্ন হিসেবে সম্রাট সাদা পোশাক পরিধান শুরু করেন এবং এক সপ্তাহ জনসম্মুখে আসা বন্ধ করে দেন। ১৬৩১ সালের ডিসেম্বরে মমতাজের মরদেহ আগ্রায় স্থানান্তর করা হয়।

এরপরই সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমার স্মরণে একটি বিশাল সমাধি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, যা আজ তাজমহল নামে পরিচিত। স্থাপত্যের প্রতি শাহজাহানের বিশেষ আগ্রহ ছিল। তবে তাজমহলের নির্মাণে তিনি এতটাই মগ্ন ছিলেন যে সাম্রাজ্যের অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় কিছুটা অবহেলিত হয়ে পড়েছিল বলে ইভা ফার্নান্দেজ দেল কাম্পো তার লেখায় উল্লেখ করেছেন।

তাজমহলের পাশে শাহজাহানের কালো পাথরের সমাধি নির্মাণের যে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে, তা আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ভিত্তিহীন। ফরাসি পর্যটক জ্যাঁ-বাতিস্ত তাভার্নিয়ে ১৬৬৫ সালে প্রথম এই ধারণার কথা লিখেছিলেন। কিন্তু আর. নাথসহ অনেক ইতিহাসবিদের মতে, তাজমহল ১৬৪৮ সালেই সম্পূর্ণ হয়েছিল এবং শাহজাহানের জন্য দ্বিতীয় কোনো সমাধির পরিকল্পনা ছিল না। তাজমহলে শাহজাহানের সমাধি মমতাজের কবরের পাশে অসমভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা হয়তো মূল নকশায় ছিল না।

পরিশেষে, ‘মাদ্রাজ কুরিয়ার’-এর ভাষ্যমতে, তাজমহল কেবল ভালোবাসার প্রতীক নয়, বরং এটি মাতৃত্বকালীন সেবার অভাব ও প্রসবজনিত জটিলতার করুণ ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। সুইডেনের মতো দেশগুলোতে ধাত্রী প্রশিক্ষণ কৌশলের ফলে ১৯০০ সালের দিকে মাতৃমৃত্যুর হার যেভাবে কমে এসেছিল, তা তৎকালীন ভারতে থাকলে হয়তো মমতাজ মহলের জীবন ভিন্ন হতে পারত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দাক্ষিণাত্যে (দক্ষিণ ভারত) মুঘলদের প্রধান কেন্দ্র বুরহানপুরে তখন তীব্র গরম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেঁচে থাকা ছয় সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন জাহানারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ চিকিৎসক এবং প্রসবে সহায়তাকারী ধাত্রীরাও ছিলেন সেখানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৭ বছর বয়সী জাহানারা এর আগেও তার মায়ের বেশ কয়েকটি প্রসবে সহায়তা করেছিলেন।কিন্তু এবার, অর্থাৎ চতুর্দশ সন্তানের জন্মের সময় কিছু একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ৩৮ বছর বয়সে প্রসব পরবর্তী জটিলতার কারণেই মমতাজ মহল পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিয়ের কিছুদিন পরই আরজুমান্দ বানু বেগমকে ‘মমতাজ মহল’ উপাধি দেন যুবরাজ খুররম, যার অর্থ ‘প্রাসাদের সবচেয়ে পছন্দের নারী’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৬২৮ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর শাহজাহান মমতাজ মহলকে ‘পাদশাহ বেগম’, ‘মালিকা-এ-জাহান’, ‘মালিকা-এ-জামানি’ এবং ‘মালিকা-এ-হিন্দুস্তান’ উপাধি দেন এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun