তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে কাতার এনার্জি তাদের ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়া ও ইউরোপের যেসব দেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, তাদের সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে কাতার এনার্জি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশও নিয়মিত সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, কাতার এনার্জির কাছ থেকে এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই গত মার্চ মাস থেকে কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি না পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরবরাহকারীরা তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, দুটি টার্মিনাল সচল রাখতে মাসে অন্তত ১০টি এলএনজি কার্গোর প্রয়োজন হয়। সেপ্টেম্বরের জন্য ইতোমধ্যে ৯টি কার্গোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে এবং অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পেট্রোবাংলা বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৯টি কোম্পানির বাইরে আরও ৯টি নতুন কোম্পানিকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে।
স্পট মার্কেটে এলএনজি আমদানির ফলে সরকারের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারিতে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ১০ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে থাকলেও, আগস্টের শেষ নাগাদ তা ২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, এত চড়া দামে এলএনজি কেনার মতো আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাই গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারকে এখন অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা নির্ধারণের দিকে নজর দিতে হবে।
উল্লেখ্য, কোনো চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আইনি দায়বদ্ধতা এড়াতে সাধারণত ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দেওয়া হয়। কাতার এনার্জি এরই মধ্যে একাধিক ক্রেতাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এলএনজি ঘাটতির এই সংকট নিরসনে পেট্রোবাংলা এখন স্পট মার্কেটকেই একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৯টির বাইরে আরও ৯ কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করে প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চড়ামূল্যের স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করে পরিস্থিতি সামালের চিন্তা করছে পেট্রোবাংলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত কয়েক মাসের মতো চলতি মাসেও ভরসা স্পট মার্কেটই।