পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। যদিও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শনিবার সকালে সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে গত শুক্রবার সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় সাংবাদিকরা হেনস্থার শিকার হওয়ার প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়গুলো এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নীতিনির্ধারকরা এখন বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে হাজারো সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ করা উচিত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও একটি কার্যকর কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন এবং সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোয়িং কেনার জন্য কোনো পক্ষ থেকে চাপ নেই। দেশের প্রয়োজনে এবং চাহিদার ভিত্তিতেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এয়ারবাসসহ অন্যান্য বিমানও কেনা হবে।
মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত থাকছে। জাতীয় স্বার্থ যেখানে প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।