চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে সীতাকুণ্ডে এক বিশাল পথসভায় বক্তব্য রেখেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সন্ধ্যার এই আয়োজনে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ কোনোভাবেই দুর্নীতিবাজদের পকেটে যেতে দেওয়া হবে না। দুর্নীতির সব পথ বন্ধ করে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণের কাছে যেসব বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। খেটে খাওয়া মানুষের মৌলিক সমস্যার টেকসই সমাধান না করে কেবল নামমাত্র কিছু কার্ড বিতরণের মাধ্যমে দায় সারা হয়েছে। দেশের মানুষের ঘাম ঝরানো উপার্জনের অর্থ লুটপাটের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি এই দুর্নীতির পকেটগুলো বন্ধ করতে প্রস্তুত?’ এ সময় উপস্থিত হাজারো জনতা হাত তুলে তার আহ্বানে সমর্থন জানান।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের রায় স্পষ্ট করেছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে জনগণের সেই রায় অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি কোনো করুণা নয়, বরং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। লংমার্চে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার নেতাকর্মীর ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষ এই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছে। অধিকার আদায়ের এই সংগ্রাম সফল হবেই এবং আমাদের অধিকারের জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবেই—ইনশাআল্লাহ।
পথসভার পুরো সময়জুড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা হাত তুলে এবং মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্যের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েই এই পথসভা শেষ হয়। লংমার্চের বহরটি এরপর চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, ‘অধিকার আমরা আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সীতাকুণ্ড অতিক্রমকালে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।