দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান এই তেল শোধনাগারের পরিশোধন সক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এই উদ্যোগের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে সরকার। এছাড়া, আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও আইডিবির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবির পক্ষে কান্ট্রি প্রোগ্রামসের ডিরেক্টর জেনারেল আনাসে আইসামি স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন। ইআরডি জানিয়েছে, বাংলাদেশে কোনো একক প্রকল্পে আইডিবির এটিই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। এই অর্থায়ন বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইডিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। জবাবে আইডিবি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সরকার মনে করছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি পেলে দেশের জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে জ্বালানি আমদানির ওপর বাংলাদেশের যে উচ্চমাত্রার নির্ভরতা রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে।