রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে ওই শিক্ষার্থীর মেসে অভিযান চালিয়ে তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। তার ভাষ্যমতে, র্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে শুরুতে সন্দেহ থাকলেও পরে সেখানে র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত হন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে যান এবং দেখেন ওই শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তোলা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে ওই শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন, ওই ব্যক্তিরা চুরির মামলার আসামি ধরার কথা বলে শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে নিয়েছেন। অধ্যাপক তারেক বিন আতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার বিস্তারিত তাদের জানানো হয়নি এবং এটি শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা তাদের পরিচয় বা মোবাইল নম্বর দিতেও অস্বীকৃতি জানান।
সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন যে, একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল র্যাব। পরবর্তীতে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে করা মামলা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তারা চলে যান। মামলাটির বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ওসি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই শিক্ষার্থীর বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।