মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। রোববার ঘটা এই দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ১৯৯৪ সালে নির্মিত একটি বোয়িং ৭৬৭ মডেলের এয়ারক্রাফট, যা মিয়ামিভিত্তিক ২১ এয়ার এলএলসি পরিচালনা করত এবং অ্যামাজনের পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামিতে আসছিল।
জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রধান জেনিফার হোমেন্ডি জানান, রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ার পর বিমানটি বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে একটি জনসাধারণের সড়কে গিয়ে পড়ে। সেখানে প্রথমে একটি ইকোনোলাইন ভ্যানকে আঘাত করে, যা পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ভ্যানটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় তাতে সাতজন আরোহী ছিলেন। এরপর বিমানটি আরও একটি বেড়া ভেঙে রোবোট্যাক্সি রাখার স্থানে ঢুকে পড়ে এবং একটি এসইউভিকে ধাক্কা দেয়। নিহত পাঁচজন এই দুটি গাড়ির আরোহী ছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে এনটিএসবি দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করেছে। জেনিফার হোমেন্ডি জানিয়েছেন, বিমানের গতি, উচ্চতা, দিকনির্দেশনা এবং পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণের জন্য এই রেকর্ডারগুলো এনটিএসবির কাছে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার অভিযান চলাকালে তদন্তকারীদের বিমানটিতে প্রবেশের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে, কারণ এই মুহূর্তে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এনটিএসবি প্রধান জানান, বিমানের দুই পাইলটের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। বর্তমানে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, রেকর্ডার বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। পুরো পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।