1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নয়াদিল্লিতে আজ শুরু ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা ডেঙ্গু প্রতিরোধে গাজীপুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬: এক ফ্রেমে হাস্যোজ্জ্বল মোদি, পুতিন ও শি জিনপিং পটুয়াখালীতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার রাজধানীর পৃথক স্থানে তিনজনের মৃত্যু: তদন্তে নেমেছে পুলিশ এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছে সরকার, চুক্তির অধিকাংশ কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা আওয়ামী লীগের মিছিলের পেছনে জামায়াতের ইন্ধন রয়েছে: রাশেদ খাঁন ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত এক ভিসায় ছয় দেশ ভ্রমণের সুযোগ: জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর পথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছে সরকার, চুক্তির অধিকাংশ কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রধান উৎসগুলো থেকে চুক্তির অধিকাংশ কার্গো বা জাহাজ সময়মতো না আসায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এখন আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বিভিন্ন চুক্তির আওতায় মোট ১০৩টি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও প্রথম নয় মাসে এসেছে মাত্র ২১টি।

দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে দরপত্রের মাধ্যমে এলএনজি কেনা হয়। গত বছর দেশে মোট ১০৯টি কার্গো এলেও এ বছর ১১৫টি আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ৮৬টি কার্গোর মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত এসেছে মাত্র ১৩টি। স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ১৭টির মধ্যে এসেছে চারটি। চুক্তির বাইরে দরপত্র ডেকে ১২টি কার্গো কেনার পরিকল্পনা থাকলেও ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি কার্গো এসেছে এবং এ মাসে আরও তিনটি আসার কথা রয়েছে।

এলএনজি আমদানিতে বাংলাদেশ মূলত কাতার ও ওমানের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর মোট এলএনজি আমদানির ৭০ শতাংশই এসেছে কাতার থেকে। তবে যুদ্ধের কারণে কাতার এনার্জি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ইউরো নিউজের ১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক পরিস্থিতির কারণে কাতার এনার্জি তাদের সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি চালান রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। দীর্ঘমেয়াদি পাঁচটি চুক্তির আওতায় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ৪৭টি কার্গোর সরবরাহ বাতিল হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন বিকল্প উৎস খুঁজছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহের উৎস বহুমুখী করা অপরিহার্য। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুই বছরের একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আমদানির বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও সীমান্তে চলমান সংঘাতের কারণে তা আপাতত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১১৭টি কার্গো কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে পাঁচটি, ২০২৭ সালে ছয়টি এবং ২০২৮ সালে ছয়টি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এছাড়া সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, চীনের চায়না রানজে হোল্ডিংস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে আটটি কার্গো কেনার ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই আগস্টের নির্ধারিত কার্গো সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে গত বৃহস্পতিবার সরবরাহ হয়েছে ২৩২ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১৬২ কোটি এবং এলএনজি থেকে ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। এলএনজি থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও আমদানির অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমতে থাকায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ছে।

বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে গিয়ে পেট্রোবাংলার আর্থিক লোকসান বাড়ছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। যদিও চলতি বাজেটে গ্যাস খাতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের কারণে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই ঘাটতি মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ এলএনজি কার্গো কিনতে প্রতি ইউনিটে ২৮ ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় ঝুঁকি বেশি। তাই কাতার ও ওমানের বাইরে ভারত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে হলে আগামী বছর চুক্তির আওতায় অন্তত ১১৬টি কার্গো নিশ্চিত করতে হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরেও খোলাবাজার থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি খাত তদারক করে পেট্রোবাংলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত মার্চে কাতারের সবচেয়ে বড় এলএনজি ইউনিটে হামলার পর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে একটি চুক্তি আছে দীর্ঘমেয়াদি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরামকোর সঙ্গেও স্বল্পমেয়াদে একটি চুক্তি আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর সবশেষ বর্তমান সরকারের সময়ে আমেরিকার কোম্পানি গানভরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এলএনজি–বিষয়ক একাধিক ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ২৪টি দেশ এলএনজি রপ্তানি করলেও ৭৬ শতাংশ সরবরাহ করে মাত্র পাঁচটি দেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পাল্টাপাল্টি আঘাত হানা হয়েছে জ্বালানি স্থাপনায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে দাম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun