ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ ভ্রমণের জন্য নতুন এক ভিসা ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই নিশ্চিত করেছেন যে, বহু প্রতীক্ষিত ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ খুব শিগগিরই কার্যকর করা হবে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ অত্যন্ত সহজ হয়ে উঠবে।
এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে, যখন জিসিসিভুক্ত ছয় দেশের পর্যটন মন্ত্রীরা এক বৈঠকে এই ভিসার প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করেন। এর পরপরই পরের মাসে সংশ্লিষ্ট দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই উদ্যোগে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। যদিও এই ভিসার নির্দিষ্ট ফি, মেয়াদ বা চালুর সঠিক তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এটি দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সমন্বিত ভিসা ব্যবস্থা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে বিশ্বের পর্যটকদের কাছে একটি একক গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এটি কেবল পর্যটকদের জন্য নয়, বরং এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য ও সহজ যোগাযোগের পথও প্রশস্ত করবে। মধ্যপ্রাচ্যকে এক সুতোয় বাঁধার যে বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে, এই ভিসা ব্যবস্থা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভিসা ব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় যাতায়াত সহজ করতেও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে নতুন বিমান ভ্রমণ সুবিধা চালু করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীরা প্রথম বিমানবন্দরেই ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের আর পাসপোর্ট চেকিংয়ের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
উল্লেখ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলে পারিবারিক পর্যটনের ক্ষেত্রে কাতার বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে। একই সাথে, মানব পাচার রোধে কাতার ‘হিউম্যান ট্র্যাফিকিং’ বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন সময়ে কাতারে সমুদ্র ভ্রমণ ও ওয়াটার স্পোর্টস পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের অংশ হিসেবে কাতার বিশ্ববিদ্যালয় ‘গ্লুকোওয়াচ’ নামক একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে, যা এআই ব্যবহার করে ডায়াবেটিস পরিমাপ করতে সক্ষম। পাশাপাশি দোহার ইসলামিক আর্ট মিউজিয়ামে বিরল হজ-দলিলসহ ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী নিয়মিতভাবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।