1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এক ভিসায় ছয় দেশ ভ্রমণের সুযোগ: জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর পথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক প্রধানমন্ত্রীর নেপালে বন্যায় ৯ দিন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন যুবক শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো কারাগারে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও চার দফা দাবি: কেন এখনো মেলেনি সমাধান? চাঁদপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, আহত ৪ ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন এমবাপ্পে, নিজেকেই সেরা দাবি রিয়াল তারকার শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭৪ ভরি সোনা জব্দ, আটক তিন দেশব্যাপী তিন মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপড়েন কাটাতে মোদি-শি বৈঠকের বার্তা

নেপালে বন্যায় ৯ দিন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন যুবক

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালের আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বন্যায় নয় দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত ৩০ বছর বয়সী শাহ জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চোখে আঘাত পাওয়ার ভয়ে তিনি দিনের পর দিন চোখ বন্ধ করে রাখতেন। দীর্ঘ সময় চোখ বন্ধ রাখার ফলে উদ্ধারের পর তার জন্য চোখ খোলাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্ধকারের মধ্যে দেখার মতো কিছু ছিল না, তাই হোঁচট খেয়ে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কায় বেশিরভাগ সময় চোখ বন্ধ রাখতাম।

আগস্টের শেষদিকে হিমালয়ের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ের গভীরে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে আটকা পড়া শাহের কাছে কোনো খাবার ছিল না। তিনি পাহাড়ের পাথর ও সুড়ঙ্গের দেয়াল চুঁইয়ে পড়া পানি পান করেই নয় দিন অতিবাহিত করেছেন। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডুতে তার বোনের বাসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন।

অসহায় সেই দিনগুলোতে হতাশা কাটাতে তিনি হিন্দু ধর্মীয় মহামন্ত্র জপ করতেন। শাহ বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও হাল ছেড়ে দিতে চাইনি। মহামন্ত্র পাঠ আমাকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও সাহস জুগিয়েছিল। ছয়তলা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পঞ্চম তলার একটি খোলা জায়গা থেকে তিনি চিৎকার করে অন্য কারো সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। তিনি জানতেন, তার পরিবার বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করছে, আর এই চিন্তা তাকে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।

সুড়ঙ্গের ভেতরে চলাফেরা করতে গিয়ে ভাঙা টিউবলাইট ও ধ্বংসাবশেষে তার শরীর বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। বন্যার আগে সুড়ঙ্গটি তার নখদর্পণে থাকলেও, বিপর্যয়ের পর এর কাঠামো পুরোপুরি বদলে যায়। যন্ত্রপাতি ভেসে যাওয়া ও দেয়াল ধসে যাওয়ার কারণে সুড়ঙ্গের পরিচিত পথগুলোও তার কাছে অচেনা হয়ে উঠেছিল। শুরুতে চলাচলের চেষ্টা করলেও, বিপদের ঝুঁকি এড়াতে তিনি শেষ পর্যন্ত একটি নিরাপদ জায়গায় স্থির থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

উদ্ধারের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে তিনি বাইরে থেকে খননযন্ত্রের শব্দ ও মইয়ের ধাতব অংশের ঠকঠক শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা আসবেন—এই বিশ্বাস আমার অটুট ছিল। উদ্ধারের সময় তিনি বুঝতে পারেন যে, সময়ের হিসাব হারিয়ে তিনি ১০ দিন পার করে ফেলেছেন, যদিও তার মনে হয়েছিল মাত্র দুই-তিন দিন কেটেছে। উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তিনি অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে নতুন জীবন ফিরে পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভয় হতো, হোঁচট খেয়ে বা কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভুল করে চোখে আঘাত পেতে পারি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শাহ স্মরণ করে বলেন, মরতেই যদি হয়, তাহলে দ্রুত হাল ছেড়ে দেয়ারই বা কী দরকার- এমনটাই ভাবতাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখান থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে শাহ চিৎকার করে বোঝার চেষ্টা করতেন, আর কেউ বেঁচে আছে কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, তাদের কথা ভাবলেই শক্তি পেতাম, মনোবল বাড়ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ঈশ্বরের নাম জপ করতাম এবং প্রার্থনা করতাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মনে হচ্ছিল, আমি যেন অন্য কোনো জগতে বাস করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun