কয়েক মাস ধরে চলা নানা সংকট ও ফ্লাইট বিঘ্ন কাটিয়ে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরটিতে যাত্রী ও ফ্লাইট চলাচলের হার দ্রুত গতিতে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দুবাই বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী পল গ্রিফিথস। তার ভাষ্যমতে, এটি কোনো সাময়িক উত্তরণ নয়, বরং দুবাই বিমানবন্দর ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘ট্রাম্পোলিনের মতো লাফ’ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করে জানিয়েছেন, কার্যক্রম আবারও পূর্ণদ্যোমে সচল হচ্ছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুবাই বিমানবন্দরকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা ও হামলার ঘটনার পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কিছু বিমান সংস্থা তাদের রুট পরিবর্তন করায় দুবাইমুখী ফ্লাইটের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে গ্রিফিথস আশ্বস্ত করেছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ অধিকাংশ বিমান সংস্থা তাদের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। যেসব এয়ারলাইন্স সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে, তাদের স্বাগত জানাতে গ্রিফিথস মজার ছলে বলেছেন, প্রয়োজনে রানওয়েতে ফুলের তোড়া নিয়ে তিনি হাজির হতেও প্রস্তুত। তিনি জানান, বিমানবন্দরের অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে, তবে এই কঠিন সময়ে কর্মীদের দক্ষতা, মনোবল ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আন্তরিক প্রচেষ্টাই অপারেশনাল সচলতা বজায় রাখতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসা ও পর্যটন খাতের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দুবাই বিমানবন্দর সংকটের সময়েও সচল থেকে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রেখেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে থাকায় আগামী কয়েক মাসে ফ্লাইট ও যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল খাতে দুবাই তার আগের শক্তিশালী অবস্থান পুনর্দখল করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।