বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের বহর সম্প্রসারণে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের উড়োজাহাজ ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার ঢাকার কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক নীতি সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।
নতুন এই চুক্তির আওতায় ঠিক কতটি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বা কোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানানোর মতো সময় এখনো আসেনি। বর্তমান বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ নিয়ে দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইউএস-বাংলা।
এর আগে গত ২৯ জুলাই ‘বিয়ন্ড উইথ বোয়িং’ অনুষ্ঠানে এয়ারলাইন্সটি ২১টি উড়োজাহাজ ইজারা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ওই পরিকল্পনার আওতায় ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়ার সবগুলো উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে নিজেদের সক্ষমতা ও সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এই নীতি সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেনসহ খাত সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়ন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিমান পরিবহন খাতের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ইউএস-বাংলার নতুন এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের এভিয়েশন সেক্টরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে।