1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মায়েদের ভূমিকা: শুধু পরিবার নয়, বৃহত্তর সমাজও

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের, বিশেষ করে মায়েদের ভূমিকা যুগ যুগ ধরে চলে আসলেও তা সেভাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। ফিলিপাইনের বুকিদনন প্রদেশের তালান্দিগ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে মায়েরা শুধু সন্তান লালন-পালন করেন না, বরং পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরোধ মেটানোর গুরুদায়িত্বও পালন করেন। এই সমাজের প্রবীণ এক নারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা সবাই মা এবং সহজাতভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী। তালান্দিগদের এই দর্শনের মূলে রয়েছে এক গভীর মানবিক বোধ; বিরোধে জড়ানো প্রত্যেক সন্তানই কারও না কারওর সন্তান। তাই সংঘাতকে জয়-পরাজয়ের হিসেবে না দেখে, সম্পর্ক রক্ষার মানবিক দায়বদ্ধতা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায়ও নারীর এই শান্তির ভূমিকা নতুন কোনো বিষয় নয়। সমাজবিজ্ঞানী ড. সুধাংশুবালা সাহু তার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এমন নানা নজির তুলে ধরেছেন। ভারতের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব জিজাবাই ও ভিদ্যাবতীর মতো নারীরা শান্তি ও সামাজিক সংহতি রক্ষার যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। এছাড়া ভারতের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্থানীয় নারী সংগঠনগুলো যেভাবে কাজ করছে, তা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ভিত্তি হতে পারে। এর মধ্যে মণিপুরের ‘মেইরা পাইবি’ বা নারী মশালবাহক আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে এই নারীরা সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহির দাবি তোলার মাধ্যমে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে চলেছেন।

তবে শান্তি-নির্মাতা হিসেবে নারীদের ভূমিকার ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। কেবল ‘মাতৃত্ব’ থাকলেই যে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংঘাত নিরসনকারী হয়ে ওঠেন—বিষয়টি এমন নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক আস্থা, পর্যাপ্ত যোগাযোগের সুযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। মাতৃত্বের দায়িত্বকে যদি কেবল নৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখা হয়, তবে এর যে প্রাতিষ্ঠানিক দিক রয়েছে, তা গুরুত্ব হারাবে। তাই শান্তি স্থাপনে নারীদের অংশগ্রহণকে কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে গণ্য করা প্রয়োজন।

আমাদের সমাজে পারিবারিক ও প্রতিবেশী পর্যায়ের বিরোধগুলো பெரும்பாலும் অনানুষ্ঠানিক পথেই মিটে যায়। নারী সমিতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগগুলো এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। শান্তি আলোচনাকে যদি শুধু রাষ্ট্রীয় চুক্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতার গণ্ডিতে আটকে না রেখে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়, তবেই মায়েদের অবদানের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব। পরিবারেই সংঘাতের প্রথম আঁচ লাগে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই মায়েদের যত্ন, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতাকে একটি বাস্তব সামাজিক শক্তিতে পরিণত করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ফিলিপাইন কিংবা ভারতের উদাহরণ থেকে একটি প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দেয়—যে নারীরা পরিবার ও সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এত ত্যাগ স্বীকার করেন, শান্তি ও সংঘাত নিরসনের নীতিনির্ধারণে তাদের কণ্ঠস্বর কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? দক্ষিণ এশিয়ার সমাজগুলোতে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা ও নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় নারীদের স্থান দেওয়া মানে কেবল সাম্য প্রতিষ্ঠা নয়, বরং একটি টেকসই ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের পথ প্রশস্ত করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারে বিরোধ মেটানো থেকে শুরু করে সামাজিক সংঘাত প্রশমিত করা—শান্তি প্রতিষ্ঠায় মায়েদের ভূমিকা অনেক সমাজেই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে খুব কমই স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে মায়ের সামাজিক ভূমিকা কখনো কখনো পারিবারিক পরিসর অতিক্রম করে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও বিস্তৃত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবার ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিরোধের বড় একটি অংশ স্থানীয় পর্যায়েই তৈরি ও সমাধান হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun