ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো এখন নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন। গত ডিসেম্বরে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশ্যে ছদ্মবেশে দেশ ছাড়ার পর থেকে নয় মাস ধরে তিনি নির্বাসনে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলের কাছে এক বন্ধুর ধার দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছেন এবং ভোর ৬টায় তার দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানোই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের বাইরে থেকে দীর্ঘমেয়াদী এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।
মাচাদো কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তা এখনো সুনির্দিষ্ট নয়। তিনি জানিয়েছেন, ১০ মিনিটের নোটিশে কিংবা ১০ দিন বা তার বেশি সময়ের প্রস্তুতির পর যেকোনো সময় তার ফেরার নির্দেশ আসতে পারে। তবে তিনি ফেরার পর ভেনেজুয়েলার ২৩টি রাজ্যজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা করছেন। তার লক্ষ্য হলো জনপদ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নিজেকে নিয়ে যাওয়া এবং মাদুরোর মিত্রদের হাত থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জনগণকে একত্রিত করা। জুনে তার সমর্থক তরুণ কর্মীরা বিভিন্ন রাজ্যে ‘এখনই নির্বাচন’ স্লোগান তুলে সমাবেশ করেছিলেন, যা তার সেই পরিকল্পনারই অংশ।
তার রাজনৈতিক দল ‘ভেন্তে ভেনেজুয়েলা’ দেশজুড়ে হাজারো নাগরিক সমাবেশের পরিকল্পনা করছে। মাচাদোর ভাষ্যমতে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে দ্রুত নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করাই হবে তার দলের অগ্রাধিকার। সেই নির্বাচনে তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তিনি শুধু প্রচারণার প্রস্তুতিই নিচ্ছেন না, বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সক্রিয়ভাবে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল সাজাচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীদারত্ব ও সাম্প্রতিক তেল চুক্তি মাচাদোর রাজনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং মাদক পাচারবিরোধী মার্কিন সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা বাড়াতে চান। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি বলছেন, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের জন্য তাদের অপেক্ষা করা উচিত নয়। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোসহ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা তাকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং তার ফেরার অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন।
মাচাদো বর্তমান সরকারকে ‘সম্পূর্ণ অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে রদ্রিগেজের ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও মাচাদো তার অবস্থানের অটল রয়েছেন। তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অতল গহ্বর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় দুটি ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা এবং সরকারের ব্যর্থতা জনরোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাচাদো মনে করছেন, এই পরিস্থিতির মধ্যে তার দেশে ফেরা গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথকে ত্বরান্বিত করবে।
উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবাদের মধ্যে কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং ময়মনসিংহে স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ইতালি ফুটবল দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৯ নতুন মুখসহ মানচিনির পরিকল্পনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে মাচাদোর ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি দেশটির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ১। চাকরির আরও তথ্য: নতুন পে-স্কেলের বকেয়া মিলবে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কড়া কফি পান করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ব্যাপক প্রবেশাধিকার দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে জুনে ভেনেজুয়েলায় ঢোকার প্রথম চেষ্টা মাঝপথেই থেমে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতার কারণে তার ফ্লাইট ফিরে যেতে বাধ্য হয়।