1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইমামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, বাদী গ্রেপ্তার প্রযোজক আলিয়ার নতুন যাত্রা: পরিচয় করিয়ে দিলেন চার নবীনকে শ্রীলঙ্কায় উদ্ধার ৫৭২ জনের হাড়গোড় গাজার অর্থ হামাসে যাওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান কাতারের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানই প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল লক্ষ্য বিদেশে শ্রমিক পাঠিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া এশিয়ান গেমসে পদকশূন্য বাংলাদেশ, পাকিস্তানের কাছে হার নারী দলের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: অর্থনীতিতে বড় অভিঘাতের আশঙ্কা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রীলঙ্কায় উদ্ধার ৫৭২ জনের হাড়গোড়

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে আবিষ্কৃত একটি বিশাল গণকবর থেকে শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জন মানুষের হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন নতুন করে সামনে আসার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং মানবাধিকার কর্মীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তারা সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন।

এই গণকবরের তথ্যটি প্রথমে বেরিয়ে আসে যখন শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের সময় একজন তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়া এক সেনাসদস্য এমন একটি স্থানের কথা প্রকাশ করেন, যেখানে শত শত মরদেহ সমাহিত ছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে এই ভয়াবহ সত্যের সন্ধান মেলে। শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ দেশটিকে জাতিগতভাবে বিভক্ত করেছিল। উত্তরাঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে তামিল টাইগার বিদ্রোহীরা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। তামিল সম্প্রদায়ের মানুষদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, সিংহলী-প্রধান সরকার তাদের ওপর ধারাবাহিক বৈষম্য চালিয়ে আসছে।

২৬ বছর স্থায়ী এই সংঘাতের ভয়াবহতায় প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সাথে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ২৩ হাজার মানুষ, যাদের সিংহভাগই তামিল জনগোষ্ঠীর। গৃহযুদ্ধের সময় নিরাপত্তা বাহিনী এবং তামিল টাইগার উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে বড় ধরনের সংঘাতের পর শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই)-এর হাত থেকে জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছিল। ২০০৯ সালে টাইগারদের পরাজয়ের মাধ্যমে সেই দীর্ঘ সংঘাতের ইতি ঘটে।

অতীতের অপরাধ তদন্তে শ্রীলঙ্কার সরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক মহলের দীর্ঘদিনের চাপের মুখে ২০১৮ সালে সরকার নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের জন্য স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ‘অফিস অব দ্য মিসিং পারসন্স’ (ওএমপি) গঠন করে। তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বহু মামলা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিনিয়ত হুমকি ও ভীতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান রোরি মাঙ্গোভেন বিবিসিকে বলেন, ভুক্তভোগীরা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। তারা কয়েক দশক ধরে প্রিয়জনদের হারিয়ে যে বেদনায় জীবন অতিবাহিত করছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি আরও বলেন, অতীতের তদন্তের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা যুক্ত হলে এসব তদন্তের ওপর আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কার সব সরকারই গৃহযুদ্ধের সময়কার নৃশংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এ বিষয়ে বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে আদালতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন ভুক্তভোগী মা জানান, তার একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি আজও রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন, তাকে ছাড়া তার জীবন অর্থহীন। এমন অসংখ্য পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আজও প্রহর গুনছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলে যখন একটি গণকবরের সন্ধান মেলে, সেটি পরিকল্পিতভাবে খুঁড়ে তোলা কোনও কবরস্থান ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে সময় জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশানের পরিধি বাড়াতে খননকাজ করছিলেন শ্রমিকরা, আর তখনই তারা সেখানে হঠাৎ মানব দেহাবশেষ খুঁজে পেতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অগাস্টের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেখানে খননের তৃতীয় ধাপ শেষ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে মৃতদের সঙ্গে তাদের নানা ব্যবহার্য জিনিসও পাওয়া যায়; যেমন: চুড়ি, স্কুলব্যাগ, দুধের বোতল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি শ্রীলংকায় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই গণকবরের অস্তিত্ব নিয়ে আগে কিছু গুঞ্জন ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, সেখানকার মরদেহগুলো নিখোঁজ হওয়া বেসামরিক মানুষদের।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun