আসন্ন উৎসবের মরশুমে আকাশপথে যাতায়াতের খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। বাড়ি ফেরা বা ঘুরতে যাওয়া যাত্রীরা ইতোমধ্যেই টিকিটের বর্ধিত দামের সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকার কোনো কৃত্রিম ভাড়া-সীমা বা ক্যাপ আরোপের চিন্তা করছে না বলে জানিয়েছেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, সরকার সরাসরি ভাড়া নির্ধারণের পরিবর্তে বিমান সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের সময়গুলোতে যাত্রীরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সংস্থাগুলোকে ভাড়ার বিষয়ে সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
বিমান ভাড়া বাড়ার নেপথ্যে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নাইডু। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের আকাশপথেও। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ভারতে বিমান জ্বালানির দাম ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ের একটি বিশাল অংশ জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়, তাই এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দামে সামান্য পরিবর্তন এলেও তা সরাসরি টিকিটের ভাড়ায় প্রতিফলিত হয় বলে মত মন্ত্রীর।
আর্থিক সংকটে থাকা স্পাইসজেটকে কেন্দ্র করে সরকারি পদক্ষেপের বিষয়েও মন্ত্রী বিস্তারিত জানিয়েছেন। জরুরি ঋণ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় সংস্থাটিকে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আর্থিক টানাপোড়েন সামাল দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে। মন্ত্রী জানান, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যাংক ও বিমান সংস্থাটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার ওপর বাকি অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি নির্ভর করছে। সরকারের কাছে এই মুহূর্তে যাত্রী পরিষেবা সচল রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিমান চলাচল নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, হাব অ্যান্ড স্পোক মডেলে পরিচালিত বিমানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আকাশপথে কোনো প্রকার যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত ব্যবস্থা আরও কঠোর ও শক্তিশালী করা হয়েছে। সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ ভ্রমণে সব ধরনের সুবিধা পান এবং বিমান সংস্থাগুলো তাদের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী নিয়মিত পরিষেবা প্রদান করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের সময়ে বিমানভাড়া নিয়ে সরকার নিয়মিত বিভিন্ন বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবারও একইভাবে সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলা হবে।