চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি তৃতীয় দিনে পদার্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। তারা অবিলম্বে আগের উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন, যার ফলে সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এতে লেখা ছিল, ‘ভিসিকে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’, ‘গর্জে উঠুক রাজপথ, সায়েম স্যারের প্রত্যাবর্তন হোক’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’। এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস আরিয়ান প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি খোলা চিঠি পাঠ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এই শাটডাউন কর্মসূচি এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হয়।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেবজিত দাশ গুপ্ত বলেন, অধ্যাপক ড. সায়েম একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং শিক্ষার্থীদের নিকট অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন অভিভাবক। তাকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া ছাড়া শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। এদিকে, ভিসিকে পুনর্বহালের দাবির পক্ষে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও সমান তালে চলমান রয়েছে।
আন্দোলন আরও বেগবান করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। উপাচার্য পরিবর্তনের ঘটনায় সৃষ্ট এই অস্থিরতা পুরো ক্যাম্পাসকে অচল করে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ায় সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবেন না তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড।