জেট ফুয়েলের মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও যাত্রীদের টিকিটের ওপর বাড়তি ভাড়া আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। জ্বালানি ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী চাপ সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচনসহ লাভজনক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো এবং কম লাভজনক রুটগুলোতে সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করার মতো কৌশল অবলম্বন করেছে।
নিউইয়র্কে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে এ বিষয়ে কথা বলেন কাতার এয়ারওয়েজের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী হামাদ আলী আল খাতের। তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রিমিয়াম জেট ফুয়েলের দর বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১৮২ ডলারে ঠেকেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও টিকিটের বাড়তি দাম যাত্রীদের ওপর চাপানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই।
ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে বলে জানান হামাদ আলী আল খাতের। তার ভাষ্যমতে, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির নানা পদক্ষেপের মাধ্যমেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব। একই সঙ্গে লাভজনক রুটে ফ্লাইট বাড়িয়ে এবং দুর্বল রুটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে বিমানবন্দরের স্লট ও নিয়মিত যাত্রী প্রবাহ বজায় রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এয়ারলাইনসটির প্রধান নির্বাহীর মতে, আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের চাহিদা এখনো বেশ স্থিতিশীল ও শক্তিশালী রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী ভ্রমণের ৬০ দিন আগে থেকেই তাদের টিকিট নিশ্চিত করছেন। যাত্রী চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা রুটগুলোতে আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়াই বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ।