1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ গাজীপুরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: শ্রীপুরে থানায় মামলা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার শপথ নেওয়া সেই ব্যক্তি আটক ১২ ঘণ্টার প্যারোলে বিয়ে সম্পন্ন করে কারাগারে ফিরলেন বর বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ কেনায় ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ভারত জুড়ে সুস্থ আছেন মুজতবা খামেনি, ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন: পেজেশকিয়ান আর্থিক সংকটে ক্রিকেটারদের বেতন ২৫ শতাংশ কমাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার অবসান ও তার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের প্রতি অমানবিক আচরণ ও তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগের সুযোগ না দেওয়ার প্রতিবাদে এই আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে দলটি।

এই কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। রাজধানী ইসলামাবাদকে কার্যত একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত অবরুদ্ধ নগরীতে পরিণত করা হয়েছে। শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে হাজারের বেশি কনটেইনার ও কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছে। এছাড়া সেতুগুলোতে বালুর বস্তা রেখে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দাবি, সরকার আতঙ্কের কারণেই এমন কঠোর অবরোধের আশ্রয় নিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানান, ইমরান খানের মামলাগুলোতে ন্যায়সংগত বিচার ও তার কারাবাস পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পিটিআই রাজপথ ছাড়বে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলে সরকারের পক্ষে এই মার্চ থামানো সম্ভব হবে না। আফ্রিদি বলেন, ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতি ও তার মামলাগুলোর ন্যায়সংগত শুনানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে পিটিআই কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না।

তবে সরকারি পক্ষ পিটিআইয়ের এই কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এই আন্দোলনকে “অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা” সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো সহিংস গোষ্ঠীকে ইসলামাবাদের দিকে মার্চ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে গত কয়েক দিনে পিটিআইয়ের অনেক নেতা ও মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে অথবা তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেখান থেকেই হাজার হাজার সমর্থক ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন বলে দলটি জানিয়েছে। রোববার থেকেই ধীরগতিতে ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করে সরকারকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা হবে, নাকি কর্মসূচি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হবে—তা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ পাচ্ছে না।

সরকারের এই কঠোর অবস্থানে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় রাজধানীর সাধারণ বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী শাহিদ বলেন, পুরো শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় নাগরিক হিসেবে সবাই অসহায় বোধ করছেন এবং এর আগে এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। ৭৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী শাহিদ বলেন, পুরো শহর ভুগছে।

ইমরান খান বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের জন্য তিনি রাজনৈতিক হুমকি হওয়ায় তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যদিও তার বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের বেশিরভাগ রায় পরবর্তী সময়ে বাতিল হয়েছে। তবে পিটিআই অভিযোগ করেছে, ইমরান খানকে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে এবং তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমকে তার নাম প্রচারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইমরান খান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং তার জন্য মানুষ রাস্তায় নামবে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, শাহবাজ শরিফের বর্তমান সরকার সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট। তবে দেশটির রাজনীতিতে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অত্যন্ত প্রভাবশালী চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পিটিআইয়ের এই আন্দোলন বড় কোনো রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

রাজনৈতিক কলামিস্ট নিয়াজ মুর্তজা মনে করেন, বর্তমানে পাকিস্তানে অসন্তোষের ব্যাপকতা অনেক বেশি। অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে। দমন-পীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ার ও বিস্ফোরণোন্মুখ হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

আফ্রিদি স্বীকার করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী ও সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। অতীতেও ইমরান খানের সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। তবুও পিটিআই তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun