1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নিউইয়র্কে সাংবাদিক আড্ডায় গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা ইরানি বিমানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্বজুড়ে চলাচলের হুমকি ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতে ‘থ্রি আর’ কৌশল অনুসরণ: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে বরফ গলাতে ‘পান্ডা কূটনীতি’ চীনের হুথিদের নির্মূলে সেনাদের জীবন দানে প্রস্তুতির আহ্বান সৌদি গ্র্যান্ড জাতিসংঘে ভাষণের সময় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কূটনীতিকদের ওয়াকআউট ক্যান্টারবুরিতে খালেদের তিন উইকেটে বড় স্বপ্ন দেখছে কেন্ট জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরুর আগেই কক্ষ ত্যাগের হিড়িক যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই চীনে ইরানি বিমানের অবতরণ জেট ফুয়েলের দাম বাড়লেও ভাড়া বাড়বে না কাতার এয়ারওয়েজের

ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতে ‘থ্রি আর’ কৌশল অনুসরণ: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বিগত বছরগুলোতে গুম, খুন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে দেশকে মুক্ত করে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ক্ষতবিক্ষত পরিস্থিতি থেকে দেশকে মেরামতের জন্য সরকার ‘থ্রি আর’ (রিকভারি, রস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল অনুসরণ করছে। তার মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরের জন্য সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে চায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের স্টার্ট-আপ উদ্যোগগুলোর প্রসারে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নারীদের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার নগদ অর্থায়নসহ স্নাতক পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার কেবল ভোটের গণতন্ত্র নয়, বরং অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে চায় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই লক্ষ্য পূরণে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব কার্ডের সমন্বয়ে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচির সাথে জাতিসংঘের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার ব্যাপক মিল রয়েছে, যার মাধ্যমে শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকারপ্রধান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়; সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে। প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’— এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী করতে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়ো-টেকনোলজির মতো আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিগত বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তার মতে, ডিজিটাল বিভাজন যেন পরবর্তী পর্যায়ে এআই বিভাজনে রূপ না নেয়, সেজন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা জরুরি। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। বৈশ্বিক এই নির্ভরশীলতার যুগে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কোভিড মহামারির শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টিকার টেকসই উৎপাদনের আহ্বান জানান।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। যেখানে তরুণরা নির্বিঘ্নে স্বপ্ন দেখতে পারবে, নারী ও শিশুসহ প্রতিটি নাগরিক সমমর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শান্তিময় ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ মন্ত্রে বিশ্ব মানবতার প্রতি বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun