তদবির, অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও পদ্মা অয়েলের কাছে সংস্থাটির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির কাছে বেবিচকের পাওনা ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি এবং পদ্মা অয়েলের পাওনা ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পাওনা পরিশোধে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। যদিও বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নিয়মিত পরিশোধের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। বেবিচকের এক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, সংস্থাটি রেকর্ড মুনাফা করলে বিপুল বকেয়া কেন পরিশোধ করা হচ্ছে না। এদিকে বিমান গত কয়েক বছর ধরে লাভজনক অবস্থানে থাকার দাবি করে আসছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা লাভের কথা জানিয়েছে। বর্তমানে বিমান বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর। পাশাপাশি বহর বাড়াতে আরও ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে।
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিমানের পার্সোনেল শাখা থেকে ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে এবং প্রভাবশালী মহলের তদবিরে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে প্রকৌশল শাখার পদোন্নতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের কথা জানানো হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করায় মন্ত্রণালয়ের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, পদোন্নতিতে যোগ্যতার চেয়ে তদবিরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় দক্ষদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতির ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক অনিয়মের পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি ও সেবা খাতের দুর্বলতা নিয়েও নিয়মিত অভিযোগ উঠছে। ফ্লাইট বিলম্ব ও নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট না ছাড়ার পাশাপাশি লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া কল সেন্টার ও টিকিট বুকিং সেবার দুর্বলতা এবং ইন-ফ্লাইট সেবায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রশাসনিক জটিলতা ও সেবামানের ঘাটতি সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।