ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ৯ বছরের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে বড় শাস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের প্রায় সবকটিতেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের এই রায় ফুটবল অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তি কার্যকর করা হয়নি, তবে স্বাধীন কমিশনের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমছে, আবারও দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো। প্রথম ডোজে কলেরার টিকা পেয়েছেন ৮২.৬ শতাংশ, বাদ পড়েছেন সাড়ে ৮ লাখ। শুরু থেকেই অবশ্য কোনো ধরনের অপরাধ স্বীকার করেনি ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রমাণিত অপরাধের মাত্রা ও প্রকৃতি বিবেচনা করে সিটির পয়েন্ট কেটে নেওয়া, বিপুল পরিমাণ জরিমানা কিংবা লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এমনকি এভারটন ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের মতো সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক অনিয়মের দায়ে পয়েন্ট হারানো ক্লাবগুলোর উদাহরণ থেকে সিটির অবনমনের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নারীদের পাচার করে নির্যাতন, ভিডিওবার্তায় জানানোর পর চক্রের হোতা গ্রেপ্তার। বর্তমানে শীর্ষে থাকা সিটিকে পরে শাস্তি দেওয়া হলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ কিংবা প্রিমিয়ার লিগে অবস্থানের হিসাব অন্য ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন করে নির্ধারণ করতে হতে পারে।
এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল ২০১৮ সালে, যখন জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেলে সিটির কর্মকর্তাদের ফাঁস হওয়া নথি প্রকাশিত হয়। প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘ তদন্তের পর এখন পর্যন্ত সব ধাপ শেষ হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে সিটির আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে শাস্তি কার্যকর হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি জটিলতা। আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন শাস্তি কার্যকর না করলে লিগের পয়েন্ট টেবিলের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।
প্রভাবিত অন্যান্য ক্লাবগুলোর ভবিষ্যৎ ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সমীকরণও এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে। এমনকি সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ক্লাবটি যে নির্দোষ, সেই বিষয়ে তাদের সংকল্প আগের মতোই অটুট। সিটির দাবি, তারা নির্দোষ।
এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিপ্পনী কেটেছেন, তার দাবি অনুযায়ী হয়তো এবার প্রিমিয়ার লিগের নতুন পদক ক্লাবের ক্যাবিনেটে যোগ হবে। যদিও বিশেষজ্ঞ টনি পুলিস মনে করেন, অর্জিত শিরোপা ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিরোপা কেড়ে নেওয়ার চেয়ে পয়েন্ট কাটা বা আর্থিক জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সিটি চারবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল। ওই সময়গুলোতে রানার্সআপ হওয়ার কারণে ক্ষতির মুখে পড়া ক্লাবগুলো শিরোপার বদলে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারে। শিরোপা পুনর্নির্ধারণ করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় এর সম্ভাবনা কম।
এই অনিয়মের প্রভাব সিটির বর্তমান খেলোয়াড়দের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্লিং হলান্ডের মতো তারকারা ২০২৫ সালে ক্লাবের সঙ্গে ৯ বছরের দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি করেছিলেন। বড় কোনো শাস্তি হলে চুক্তিতে থাকা শর্তাবলী নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবুও ক্লাবটি সম্প্রতি দলবদলের বাজারে প্রায় ৪৬ কোটি পাউন্ড খরচ করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আবুধাবি-সমর্থিত ক্লাবটি যদি মনে করে সালিশি প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি সমস্যা হয়েছে, তাহলে ইংল্যান্ডের হাইকোর্টেও বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
অন্যদিকে, স্পেনের লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, আর্থিক অনিয়মের এই মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ফুটবল বিশ্ব নতুন কোনো মোড় দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। ইয়ামাল ঝড়ে স্পেনের দাপট, গর্ডন-কেইনের গোলে স্বস্তি ইংল্যান্ডের।