রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তদন্তে কারো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে তাণ্ডব চালায়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টিকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে, যার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি হামলার সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন। ওই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
এই ঘটনায় শাহআলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি পুলিশের একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া। এসব তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়, যেখানে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের নামও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।