তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরানের কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ সরকারি নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ইস্তাম্বুল থেকে তেহরান যাওয়ার প্রস্তুতির সময় উড়োজাহাজটি জব্দ করা হয়। বিমানবন্দর পরিষেবা বাবদ প্রায় ৩০ লাখ ইউরো বকেয়া পরিশোধ না করায় আদালতের আইনি আদেশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেয় তুর্কি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় যাত্রীরা বিমানে উঠে উড্ডয়নের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু আদালতের প্রতিনিধিরা বিমানে প্রবেশ করার পর তাদের নামিয়ে দেওয়া হয় এবং ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। দ্য ইউরো নিউজ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে আরও বলা হয়, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর পরিষেবা বাবদ প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর বকেয়া অর্থের হিসাব নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয় যে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বকেয়া অর্থ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দ্রুত উড়োজাহাজটি ইরানে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। উল্লেখ্য, এই ঘটনাটি ইরানের বিমান খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক দিন পরই ঘটেছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই বিমান জব্দের সঙ্গে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোনো সংযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের ফলে ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলার ব্যবহারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা দেশটির এভিয়েশন খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। জব্দের ঘটনায় ফ্লাইটটির কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তুরস্ক এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ না করলেও, এই ঘটনার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত ইরান এয়ারের মতো কিছু সংস্থা দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে এর মধ্যেই ইরানের অন্যতম প্রধান পণ্যবাহী বিমান সংস্থা ‘মহান এয়ার’ জানিয়েছে, আঙ্কারার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা তুরস্কে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তুরস্ক ও ইরানের মধ্যকার বিমান যোগাযোগ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।