বৃহস্পতিবার থেকে সরকার দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাইলট পর্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত জমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত থেকে এই বিশেষ কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। কৃষক কার্ডধারীরা কাছাকাছি ডিলার, বিক্রয়কেন্দ্র বা সেবাকেন্দ্র থেকে নির্ধারিত পণ্য ও সেবা কিনতে বা গ্রহণ করতে পারবেন।
ফেনীর ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১৩ জেলার কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই পাইলট কার্যক্রম চলমান থাকবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ১৮ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করবেন। এছাড়াও স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, কৃষকদের কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুযোগ এবং সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি আরও সহজলভ্য করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তিন ধাপে—প্রি-পাইলট, পাইলট এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণ—এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রি-পাইলট পর্যায়ের পর গত পহেলা বৈশাখ থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত ১০ জেলার প্রায় ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষক এই কার্ড হাতে পেয়েছেন।