1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ৮১টি যুদ্ধযান ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস অস্ট্রেলিয়ায় চার বছরে ৬.৫ লাখ অস্থায়ী ভিসা বাতিলের ঘোষণা শৃঙ্খলাভঙ্গ: নিজের কঠোর শাস্তির আবেদন রোনালদোর পাঁচ পাতার চিঠিতে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধিতে চাপে দেশের বিমান পরিবহন খাত রসায়নে নোবেল জয় জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানীর দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কুড়িগ্রামে দুই ইউএনওর বিরুদ্ধে শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রতিবাদ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন সেনাপ্রধান শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান

অস্ট্রেলিয়ায় চার বছরে ৬.৫ লাখ অস্থায়ী ভিসা বাতিলের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোট আসন্ন সরকার নির্বাচনে জয়ী হলে দেশটিতে অভিবাসনের হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর সম্প্রতি জানিয়েছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রথম দুই বছরে নিট অভিবাসন কমিয়ে বছরে এক লাখ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে তা যথাক্রমে এক লাখ ৩০ হাজার ও এক লাখ ৬০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। তাদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বড় অভিবাসন ছাঁটাইয়ের ঘটনা। ২০২৫ সালে দেশটিতে নিট অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ এক হাজার। বর্তমান লেবার সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামানোর পরিকল্পনা করলেও বিরোধী জোটের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি কঠোর। তৃতীয় বছরে এটি হবে ১ লাখ ৩০ হাজার এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার। ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিট অভিবাসন (নতুন আসা মানুষের সংখ্যা থেকে দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাদ দিলে যা থাকে) ছিল ৩ লাখ ১ হাজার।

এই প্রস্তাবিত নীতির সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকরা। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ‘অস্থায়ী স্নাতক ভিসা’ধারী রয়েছেন, যা কমিয়ে ১০ হাজারে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিরোধী জোট। এছাড়া নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সীমা ২ লাখ ৪০ হাজারে বেঁধে দেওয়া হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের শিক্ষার্থী এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও বয়স্কসেবা কর্মীদের ভিসার সুযোগ কিছুটা বাড়ানো হলেও মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে ১০ হাজারে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া ‘অস্থায়ী স্নাতক ভিসা’ পুরোপুরি বাতিলের কথা বলেছে জোট। তাদের জন্য নতুন করে ‘পড়াশোনা-পরবর্তী সাময়িক ভিসা’ চালু হবে।

অস্থায়ী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে দ্বিতীয়বার ভিসার আবেদন করা বাধ্যতামূলক হবে, যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে আবেদনের সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেবে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার অপেক্ষমাণ ব্রিজিং ভিসা এবং অস্থায়ী আশ্রয় ভিসাধারীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাঙ্গাস টেইলর অস্ট্রেলিয়াকে ‘হোটেল নয়, বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করে এই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিবাসনবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর জনপ্রিয়তায় চাপ অনুভব করেই বিরোধী জোট এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টেইলর বোঝাতে চেয়েছেন—মানুষ এখানে কিছুদিন থেকে সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ নিয়ে চলে যায়, কিন্তু দেশটির প্রতি তাদের কোনো দায় বা অঙ্গীকার থাকে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভিবাসনবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’ তিন বছরে সাড়ে সাত লাখ অস্থায়ী ভিসাধারীকে ফেরত পাঠানোর কথা বলে জরিপে বিরোধী জোটকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিরোধী জোটের এই ঘোষণা প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘ সময় ব্যয় ও মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে পড়াশোনা শেষ করার পর এমন নীতি তাদের পুরো ক্যারিয়ার ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি কর্মী অভিযোগ করেন, আবাসনসংকট ও মূল্যস্ফীতির ব্যর্থতা ঢাকতে রাজনীতিকরা অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা শিক্ষার্থীদের ওপর।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও বিভাগের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভী এই লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোতে এত বিশাল সংখ্যক ব্রিজিং ভিসা বাতিল করা অসম্ভব এবং এটি দেশের স্বাস্থ্য ও সেবা খাতে বড় ধরনের শ্রমঘাটতি তৈরি করবে। ক্ষমতাসীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও এই ঘোষণাকে হঠকারী বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি জাতীয় বাজেটে বিশাল ঘাটতি তৈরির পাশাপাশি উৎপাদন ও সেবা খাতে চরম কর্মিসংকট সৃষ্টি করবে। যদিও এই নীতিগুলো বর্তমানে কেবল একটি প্রস্তাব মাত্র, যা ২০২৮ সালের কেন্দ্রীয় নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun