1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গোল করে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ওতামেন্দি রোহিঙ্গা সংকট: অনির্দিষ্টকাল বোঝা বইতে পারবে না বাংলাদেশ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বিরোধী জোট ও তরুণেরা গোঁসাইয়ের দহ বাঁচাতে চাই টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবে মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের ইংলিশ অ্যাকসেস প্রোগ্রামে সাফল্য পেলেন সমৃদ্ধি হালদার অবসরপ্রাপ্তদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে যাত্রা শুরু রিটায়ারএক্সপার্টের মতিঝিলের ঐতিহাসিক ‘বাংলার বাণী’ ভবন এখন কার দখলে? ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াত এমপির ধন্যবাদ

গোঁসাইয়ের দহ বাঁচাতে চাই টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর একটি বাঁক বা ‘গোঁসাইয়ের দহ’ একসময় স্থানীয় জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এটি কেবল দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রই ছিল না, বরং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার পালনের অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবেও পরিচিত ছিল। কিন্তু পলি জমা, দখল, কৃত্রিম বাঁধ এবং কচুরিপানার উপদ্রবে আজ এই জলাশয়টি মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কেবল জলাধার শুকিয়ে যাওয়া নয়, এটি পুরো একটি এলাকার সামাজিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হওয়ার অশুভ সংকেত দিচ্ছে।

আশির দশক থেকেই করতোয়ার গতিপথ পরিবর্তন এবং দখলের কারণে গোঁসাইয়ের দহের স্বাভাবিক রূপ বদলে যেতে শুরু করে। মানবসৃষ্ট এই বিপর্যয়ের ফলে আজ সেখানে মাছের ঝাঁক নেই, নেই জেলেদের কর্মব্যস্ততা। এর মাধ্যমে বড় প্রশ্নটি সামনে আসছে যে, আমরা আমাদের নদী, বিল ও দেশি মৎস্য প্রজাতিকে কতটুকু রক্ষা করতে পারছি? জলাভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জীবন ও জীবিকা আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) করতোয়ার পুরোনো গতিপথে খননকাজ চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কেবল মাটি কেটে দায়িত্ব শেষ করার ফলে কিছুদিন পরেই নদী পুনরায় ভরাট হয়ে যায়। গোঁসাইয়ের দহের ক্ষেত্রে এমন ত্রুটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। খনন পরিকল্পনা তৈরির সময় নদীর সঙ্গে প্রাকৃতিক সংযোগ রক্ষা, পাড় তৈরি এবং খনন করা মাটি যাতে পুনরায় সংযোগপথ বন্ধ না করে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

উদ্ধার প্রক্রিয়ায় খননের পাশাপাশি দখল উচ্ছেদ করা অপরিহার্য। অনেক সময় সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত অক্সিজেন, প্রাকৃতিক খাদ্য ও প্রবাহ নিশ্চিত না করেই তড়িঘড়ি করে পোনা অবমুক্ত করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনে না। কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ করে জলপ্রবাহ ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই উদ্যোগ সফল হবে না। পুনরুদ্ধার কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। কালক্ষেপণ না করে বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ নিলে কেবল দহ নয়, জীববৈচিত্র্য, জীবিকা ও এই জনপদের ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun