শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে আয়োজিত সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব এবং শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত কর্মপরিবেশ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করা হয়েছে। এছাড়া শ্রম সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং ১৮৯ অনুমোদন করেছে।
সফররত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ পথনকশা তৈরিতে সহায়ক হবে। তিনি জানান, সরকার দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। শ্রম প্রশাসনকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি ও সামাজিক সংলাপ জোরদারে সরকার বিভিন্ন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মাহদী আমিন জোর দিয়ে বলেন, মালিক ও শ্রমিকের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শিল্প শান্তি রক্ষা এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর সামাজিক অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই। সরকার শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এছাড়া তিনি ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখতে সবক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজ করা, শ্রম আইন সংশোধন, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নের উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুন।
সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই পুরো কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের জীবনের মানোন্নয়ন এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।