রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা বাংলাদেশ আর অনির্দিষ্টকাল বহন করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক এক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারেই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল সমাধান নিহিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু মৌখিক সমর্থন নয়, সংকট সমাধানে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনে যে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছিলেন, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জন রোহিঙ্গার ওপর জরিপ চালানো হয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৭২টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে অস্বীকার করে না, তবে যে পরিস্থিতির কারণে তারা দেশ ত্যাগ করেছিল, সেই একই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে তারা অনিচ্ছুক। অনুষ্ঠানে গবেষক দলের পক্ষ থেকে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অংশীজনের ৭২টি একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন একটি আস্থার বিষয়। রোহিঙ্গারা দয়া নয়, বরং নিজের অধিকার ফিরিয়ে পেতে চায়। একটি গ্রহণযোগ্য প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জমির মালিকানা, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আস্থা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দিকনির্দেশনা দিতে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠনের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, সেখানে ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতাকে ‘নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।