আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের শুরুটা স্বপ্নের মতো হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন ব্যাটাররা, তাতে অন্তত ৪০০ রান করাটা ছিল সময়ের দাবি। কিন্তু দিনের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাটিং ধসে এখন ৩৫০ রানের কোটা পূরণ করা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রথম দিনের খেলা শেষে নাজমুল হোসেন শান্তর দল ৮৪ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা করেছে ৩১৭ রান। যেভাবে বাংলাদেশ এগোতে থাকে, সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০০ রান করতেই পারত তারা। কিন্তু হঠাৎ ধসে এখন ৩৫০ রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে কি না, তা নিয়েই কাজ করছে সংশয়। যার কারণে দিন শেষে ৮ উইকেট পড়েছে। কিন্তু লাঞ্চের পর তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত এক উদ্বোধনী জুটিতে। ২২.৫ ওভারের মধ্যেই তারা ১২৪ রান তুলে ফেলেছিলেন। সেই সময় বাংলাদেশের রানরেট ছিল ৫.৪৩। তানজিদ হাসান তামিম ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৮৩ রান করে আউট হন। তার আগেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০১ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন, যার ধারাবাহিকতা এখানেও বজায় ছিল। সাদমান ইসলামও দারুণ শুরুর পর সেটা কাজে লাগাতে না পারায় আফসোস করছেন। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পরও সাদমান-মুমিনুল সাবলীলভাবে এগোতে থাকেন। সাদমান তুলে নেন তার নবম টেস্ট ফিফটি। যেখানে মুশফিকুর রহিম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন।
এক পর্যায়ে ১ উইকেটে ১৮৪ রান তুলে বাংলাদেশ যখন শক্ত অবস্থানে ছিল, ঠিক তখনই বিপর্যয়ের শুরু। মুহূর্তের ব্যবধানে ৫ উইকেটে ২২৫ রানে পরিণত হয় দলটি। এর মধ্যে অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটার ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। পরবর্তীতে সাদমান ইসলাম ৬৭ রান এবং লিটন দাস ৫৩ রান করে দলের সংগ্রহ ৩০০ পার করতে সাহায্য করলেও, আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দিনটি শেষ করতে হয়েছে অস্বস্তি নিয়ে। আফগান বোলার সেলিম এদিন ৩টি উইকেট শিকার করেছেন।
দিনশেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাদমান ইসলাম। তিনি বলেন, সকালবেলা আলহামদুলিল্লাহ আমরা প্রতিপক্ষকে খুব ভালোভাবে সামলেছিলাম, কিন্তু আমরা যে শুরুটা করেছিলাম তা আরেকটু ভালো হতে পারত। দিনের শেষে বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলার কারণেই মূলত এই আক্ষেপের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দলের লক্ষ্য থাকবে বাকি উইকেটগুলো নিয়ে স্কোরবোর্ডে সম্মানজনক রান যোগ করা।