প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স প্রবাহ বন্ধের হুমকিকে চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, রেমিট্যান্স দেশের কোটি পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহের অন্যতম ভিত্তি এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের এই চক্রান্ত সাধারণ মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখার অপপ্রয়াস। তিনি সম্প্রতি বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, অন্যায় বা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যারা এই ধরনের অপরাধীদের রক্ষা করতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর মতো কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা কখনোই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়নি। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭১, ১৯৮৬ কিংবা ২০২৪ সালজুড়ে বারবার দলীয় স্বার্থই বড় হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, কেবল মিছিল-স্লোগান দেওয়া ছাত্ররাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি সুফি সাধক হাসান বসরীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, অন্তরের যত্ন নিলে বাহ্যিক সত্তাও সুন্দর হয়। এছাড়া দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিৎসের ‘Suffering is the root of all greatness’ উক্তিটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মহৎ অর্জনের জন্য শ্রম ও কষ্টের পথ পাড়ি দিতে হয়। তিনি বলেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনের ব্যর্থতা যে হতাশা তৈরি করেছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান তা ভুল প্রমাণ করেছে এবং তরুণদের সাহসই স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমল কুঁড়ির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। আয়োজনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।