1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াদগামী মানবিক ফ্লাইটের জন্য ইয়েমেনের অনুমতি বাধ্যতামূলক ইয়েমেনে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান: হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ: ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ও সতর্কতা জারি রেনশর ১৯০ রানের মহাকাব্যে অস্ট্রেলিয়ার লড়াইয়ের পুঁজি ফতুল্লায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় ১০ জন আহত পদত্যাগের দাবিতে অবিচল ককরোচ জনতা পার্টি, আটক সাত হাজার কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ব্যয় ৬০ লাখ ডলার দেশে হামের উপসর্গে আরও আটজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১,০৮৬

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ ও আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আইসিসি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পিল্লাইয়ের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্মরণীয় করে রেখেছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াট্টার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়। পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞাকে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক ব্যবস্থার ভিত্তির ওপর একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আদালতটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকেই এখন আইসিসির সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরও স্পষ্ট করেছে যে, আদালত একা টিকে থাকতে পারে না এবং এর ভবিষ্যৎ মূলত প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রগুলোর ওপরই নির্ভর করছে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার বিষয়।

২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিসি। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটির কার্যক্রমের প্রতি বিরোধী অবস্থান বজায় রেখে আসছে। আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত বিচারক ও কৌঁসুলিদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবারের নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বিস্তৃত। এর আওতায় এখন আদালতকে সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন কোম্পানিও শাস্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কোনো মার্কিন নাগরিকের বিচার করার অনুমতি আইসিসিকে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আইসিসির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা, এর অর্থ ও সম্পদ পাওয়ার পথ বন্ধ করা এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা সীমিত করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। তবে ট্রেজারি বিভাগ টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন প্রদান ও বন্দি সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে।

নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে অতীতের তদন্তের কারণে ওয়াশিংটনের সাথে আইসিসির দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বিচারিক কার্যক্রমকে দুর্বল করার চেষ্টা হলেও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

নোবেল কমিটি পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার সময় মন্তব্য করে যে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার, তখন এই সম্মাননা তাদের প্রতি সমর্থন জোগাবে। কমিটি আরও জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে থাকা কোম্পানিগুলোর পক্ষে আইসিসির সাথে কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া, বিমা সুবিধা বাতিল এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও জো বাইডেনের আমলে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ফের এই পথ বেছে নেয়। রুবিও দাবি করেন যে, রোম স্ট্যাটিউটভুক্ত দেশগুলোর কাছে মার্কিন উদ্বেগের সমাধানের আশা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছে।

রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আইসিসি তাদের হুমকির পথ থেকে সরে না এলে যুক্তরাষ্ট্র আদালতটির কার্যক্রম চিরতরে বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে আদালতটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। সদস্যদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর সব সদস্য রয়েছে।

আইসিসি বর্তমানে বিশ্বনেতা ও সংঘাতের সাথে জড়িত ৭০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এদের মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিন, ওমর আল-বশির ও মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো নেতারা রয়েছেন। এছাড়া হামাস নেতাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নিয়েছে আদালত। নেদারল্যান্ডসে সদর দপ্তর থাকা এই সংস্থাটি অতীতে অনেক সদস্য দেশের সমর্থন পেলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun