সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে পরিচালিত মানবিক ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। এখন থেকে এসব ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ইয়েমেনের সানায় অবস্থিত মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্রের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ও বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাহিনীটি স্পষ্ট করে বলেছে, সমন্বয় কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবের নির্দিষ্ট বিমানবন্দর বা আকাশপথ ব্যবহার করলে গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, সানার মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র থেকে যে সকল ফ্লাইটের অনুমতি মিলবে, কেবল সেগুলোকেই রিয়াদ বিমানবন্দরে অবতরণ বা যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় বজায় রাখাকেই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগেও ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। সংস্থাগুলো যাতে নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় সৌদি আরবের ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা এবং দেশটির নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহার থেকে বিরত থাকে, সেই আহ্বান আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সানার সাথে সমন্বয় ব্যতীত কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা হলে তা অনিরাপদ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য আকাশপথের নিরাপত্তা, সঠিক ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে যাত্রী, ক্রু এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থাগুলোকে বিকল্প আকাশপথ ও পরিচালন পরিকল্পনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হতে পারে। তবে এই সতর্কবার্তার বাস্তব প্রয়োগ, সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমে কী ধরণের পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।