কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনিবার সকাল আটটার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার এই রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ১৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। এ ঘটনায় ৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য। তবে উদ্ধারকাজের মাঝে স্বজন হারানোদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী বারবার ‘সাইফ’ নামের একজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আর্তনাদ করছেন। পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। তবে সাইফের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক কী, তিনি নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কি না বা তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজের ব্যস্ততা আর স্বজনের সন্ধানের মাঝে এই নারীর আহাজারি হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও, আমি কারে নিয়া বাঁচুম’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার এই আকুতি জানাচ্ছিলেন এক নারী। তার কণ্ঠে স্বজনকে হারানোর কষ্ট ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, রিসোর্টটি মূলত কাঠের তৈরি হওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিবিড়ভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং অন্যদের অবস্থান নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাঠের তৈরি স্থাপনা হওয়ায় আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চারদিকে পোড়া ধ্বংসস্তূপ, পুড়ে কয়লা হয়েছে সবকিছু।