1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সৌদিতে বিধ্বস্ত সামরিক হেলিকপ্টার: নিহত ২ ক্রু সৌদিতে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন: সিভিতে জালিয়াতির পদত্যাগের নির্দেশ গুজব, দাবি মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরে ময়লার ভাগাড় আড়াল করার সুইডিশ জীবনদর্শন ‘লাগোম’: সুখী হওয়ার নতুন পথ রিমান্ডে নেওয়ার আগে চারজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন রাজশাহী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথমবার বোর্ডিং ব্রিজে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ ২০৩০ সালেই বিদায় নেবেন মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি

গোদাগাড়ীতে পূজামণ্ডপের চালের বরাদ্দপত্র ঘিরে সিন্ডিকেটের কারসাজি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪২টি পূজামণ্ডপের প্রতিটির জন্য সরকার ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সরকারি এই বরাদ্দের চালের বরাদ্দপত্রগুলো একটি প্রভাবশালী চক্র কম দামে কিনে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পূজারিদের দাবি, বরাদ্দ পাওয়া চালের বিপরীতে তারা ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন, যা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম।

পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা ধরলে ৬০০ কেজি চালের দাম হওয়া উচিত ৩০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে, এই বরাদ্দের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা পাওয়া গেলে পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ সরাসরি ১০ হাজার টাকা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে বরাদ্দপত্র হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোদাগাড়ী পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অনিন্দ কুমার ভকত (পাপ্পু) জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র ৩০ টাকা দরে বরাদ্দপত্র কিনতে চেয়েছিল। তবে তারা কয়েকজন মিলে অন্য এক ডিলারের কাছে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা দরে ২১ হাজার টাকায় বরাদ্দপত্র বিক্রি করেছেন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গোদাগাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি শ্রী শান্ত কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, একটি সিন্ডিকেট তাকেও ৩০ টাকা দরে বরাদ্দপত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে তিনি এখনো তা বিক্রি করেননি। ভালো দাম পেলে তবেই চাল বিক্রির চিন্তা করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা জানান, গত বছর ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৪৪ টাকা হিসেবে ২২ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়ানো হলেও মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ কম। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষ্ণ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূজামণ্ডপে এই চাল ব্যবহার করা হবে না, বরং যেখানে ভালো দাম পাওয়া যাবে সেখানেই তারা এটি বিক্রি করবেন। তারা আরও ভালো মানের চিকন চাল পূজার প্রয়োজনে কিনবেন। কমিটির আহ্বায়ক রহিত কুমার বর্মন মনে করেন, চালের পরিবর্তে সরাসরি নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব হতো। এবার তারা চালের বরাদ্দপত্রের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা হিসেবে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ৪২টি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চালের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ এই চাল সংগ্রহ করে নিজেরাই ব্যবহার করতে পারেন অথবা নিজেদের সিদ্ধান্তে বিক্রিও করতে পারেন। সরকার চাল বিক্রির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে না এবং এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধও নেই। পূজারিরা জানিয়েছেন, গোদাগাড়ী উপজেলা ও দুটি পৌরসভার ৪২টি মণ্ডপের চাল এক ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ বরাদ্দপত্র পেয়েছেন এবং এটি তাদের ওপর নির্ভর করছে যে তারা চাল রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন। তবে সরকারি চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun