আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এয়ার চায়না কার্গো তাদের বহরকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের বহরে ১৪তম বোয়িং ৭৭৭এফ মালবাহী উড়োজাহাজটি যুক্ত করেছে। নতুন এই উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর বি-২২৯ডি। গত ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট কারখানা থেকে উড়োজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার চায়না কার্গোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর এটি সিয়াটলের পেইন ফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
এয়ার চায়না কার্গোর বর্তমান বহরে এখন ১৪টি বোয়িং ৭৭৭এফ মালবাহী উড়োজাহাজ রয়েছে। এসবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আটটি এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ এবং দুটি বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মডেলের মালবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই এয়ারবাসগুলো মূলত যাত্রীবাহী বিমানকে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়েছে। এদিকে দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে এয়ারবাসের সঙ্গেও নতুন চুক্তি করেছে এয়ার চায়না কার্গো। গত মে মাসে এয়ারবাস নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি আরও চারটি এ৩৫০ মালবাহী উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে, যার ফলে এই মডেলে তাদের মোট ক্রয়াদেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে।
কারিগরি দিক থেকে বোয়িং ৭৭৭এফ অত্যন্ত কার্যকর। উড়োজাহাজটি একবারে সর্বোচ্চ ১০২ মেট্রিক টন পর্যন্ত পণ্য বহন করতে পারে এবং এর উড্ডয়ন পরিসর প্রায় ৯ হাজার ২০০ কিলোমিটার। দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের ক্ষমতার কারণে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা ব্যাপক।
বোয়িংয়ের ৭৭৭এফ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্গমনসংক্রান্ত একটি ছাড়পত্র প্রদান করায়, ২০২৭ সালের পরবর্তী সময়সীমার পরও এই মডেলের উড়োজাহাজ বিক্রি ও উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বোয়িং একদিকে যেমন বিদ্যমান চাহিদা পূরণ করতে পারবে, তেমনি পরবর্তী প্রজন্মের ৭৭৭-৮ মালবাহী উড়োজাহাজ তৈরির প্রস্তুতি ও গবেষণা কার্যক্রমও নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।