মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন যে, ২০৩০ সালে তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্ষমতায় থাকার সময়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং এ লক্ষ্যে দেশটির সংবিধানেও কোনো ধরনের সংশোধনী আনা হবে না। শনিবার মিসরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অবস্থিত সামরিক একাডেমির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সিসি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌলিক ভিত্তি ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা অটুট রাখা জরুরি। তার ভাষ্যমতে, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সংবিধানের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট করা আছে। তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজ চলছে এবং নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার কর্তব্য থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তিনি আরো বলেন, ‘আমি মিশর রাষ্ট্রকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না এটি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার মতো সক্ষম মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে মিসরের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট সিসি। তিনি জানিয়েছেন, ভ্রাতৃপ্রতিম উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষায় মিসর যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত। সৌদি আরব অনুরোধ জানালে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে দ্রুত অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডাকা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সিসি বলেন, ‘আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষা ও প্রতিরক্ষায় আমরা দৃঢ়ভাবে পাশে রয়েছি।’।
আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, মিসরীয় সামরিক একাডেমিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সিসি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি আবারও নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান মেয়াদ শেষে ২০৩০ সালেই তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেবেন, যা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশে থাকার যে নীতি, তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।