ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় পাখির ধাক্কায় এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর দুবাই থেকে আসা ইকে৫১৭ ফ্লাইটটি দিল্লিতে নামার সময় এ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হয়। এর ফলে উড়োজাহাজটিতে প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করতে হয়, যার কারণে স্বাভাবিক সময়সূচি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জেরে দিল্লি থেকে দুবাইগামী ফিরতি ফ্লাইটটি ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বিত হয়। এতে উড়োজাহাজটির প্রয়োজনীয় মেরামতের প্রয়োজন দেখা দেয়। সংস্থাটি জানায়, উড়োজাহাজটি প্রয়োজনীয় মেরামতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ১৭ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে পাখির ধাক্কায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তোলার প্রয়োজনে বিমানটিকে গ্রাউন্ডেড রাখা হয়। এতে ফ্লাইটটি ১৮ অক্টোবর সকাল ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘ এই অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের জন্য এয়ারলাইনসটির পক্ষ থেকে হোটেলে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুনর্নির্ধারিত ফ্লাইটটি ১৮ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দিল্লি থেকে উড্ডয়ন করে।
এমিরেটস কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং যাত্রীদের অসুবিধার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। যদিও কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও ফ্লাইটটি দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় ভ্রমণসূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। কতজন যাত্রী এই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে এয়ারলাইনসটি নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
দিল্লি বিমানবন্দরে এ ধরনের পাখির ধাক্কা লাগার ঘটনা সম্প্রতি বেড়েছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত বিমানবন্দরের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি এবং বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাংস বিক্রির বিষয়টিকে পাখির সংখ্যা বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা পাখিদের বিমানবন্দরের দিকে আকৃষ্ট করছে, যা উড়োজাহাজের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞগণ বিমানবন্দর এলাকা পরিষ্কার রাখা এবং পাখির আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। যদিও এ ঘটনায় উড়োজাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত দুই বছরে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে পাখির ধাক্কা লাগলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।