যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চারটি বিশেষায়িত মধ্যম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দায়ের করা একটি মামলা শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। অভিভাবকদের একটি দল অভিযোগ করেছে যে, কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থীদের বাড়তি সুযোগ দিতে গিয়ে এশীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টির বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলোতে কঠোর পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কোভিড-১৯ মহামারির সময় কর্তৃপক্ষ ‘প্যানডেমিক প্ল্যান’ বা মহামারিকালীন পরিকল্পনা নামে একটি নতুন ভর্তি পদ্ধতি প্রবর্তন করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত সম্ভাবনা যাচাই করা হয় এবং পরবর্তীতে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিশেষায়িত বা স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে পড়ানো হয় এবং পড়াশোনার মানও বেশ কঠোর। চালুর সময়ের কারণে এ নীতিমালার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্যানডেমিক প্ল্যান’।
অভিভাবকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর এডুকেশন ফেয়ারনেস’-এর দাবি, এই নতুন পদ্ধতির ফলে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, অনেক এশীয় শিক্ষার্থী তুলনামূলক ভালো মানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে এবং সেখানে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম, যা ভর্তি মূল্যায়নের সময় তাদের প্রতিকূলে কাজ করেছে।
মামলাকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলের সঙ্গে পারিবারিক আয়ের তুলনা করে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকতে পারে। যদিও প্রক্রিয়ায় সরাসরি জাতিগত পরিচয়ের উল্লেখ নেই, তবুও নেপথ্যে বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তাদের দাবি। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে অভিভাবকদের আইনজীবীরা বলেন, আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ভিত্তি ধরে হিসাব করলে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পূরণ করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক পলা জিনিস এই মামলাটি খারিজ করেছিলেন। সে সময় তিনি পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন যে, বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এশীয়-আমেরিকানদের হার আবেদনকারীদের হারের চেয়ে কম নয় এবং ভর্তির লটারি নীতিতে কোনো বৈষম্যমূলক উদ্দেশ্য ছিল না।
অপরদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলাটি নাকচ করার আহ্বান জানিয়ে আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, প্যানডেমিক প্ল্যান একটি জাতিগত পরিচয়-নিরপেক্ষ লটারি পদ্ধতি। এর ইতিহাস বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংবিধানের কোনো বিরোধ নেই বলে তারা দাবি করেন।
এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা খতিয়ে দেখবেন, মামলার বাদীদের কাছে বৈষম্যের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না। একই সঙ্গে তারা বিবেচনা করবেন, জাতিগত নিরপেক্ষ নীতিতে বৈষম্যের শিকার হওয়ার দাবি করা গোষ্ঠীকে অন্যদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে কি না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং জুনের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের রায় আশা করা হচ্ছে।