আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুন্নত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তজনা নিরসনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্স। দোহায় আয়োজিত এক শীর্ষ বৈঠকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাড়তি ফি বা বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতা কমিয়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে জোর কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এদিকে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছেন, তেহরান কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথে হাঁটতে প্রস্তুত রয়েছে।
গাজা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অবিলম্বে সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি গাজার বাসিন্দাদের কাছে কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্যমতে, বর্তমানে গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের সম্মুখীন।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কাতার ও ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিম তীর দখল বা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে দেশ দুটি। পাশাপাশি, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপদ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে কাতার ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বার্তা দিয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও গাজার মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বকে এই যৌথ বিবৃতিতে মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কাতারে ড্রোন উড্ডয়ন নীতিমালাসহ স্থানীয় বিভিন্ন আইন ও প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নিয়ম সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হয়েছে। এর মধ্যে অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ালে সাত বছরের জেল ও তিন লাখ রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া ওষুধ বিক্রিতে কঠোরতা, জুমার নামাজের সময় দোকানপাট বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম এবং কাতারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সাফল্যও দেশটির বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা।
স্যামসাং ওয়ালেটে কাতারের জাতীয় কার্ড ‘হিময়ান’ যুক্ত হওয়া এবং দশ বছর মেয়াদী ভিসার সুযোগের মতো বিষয়গুলো দেশটিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকেও কাতার সমান মনোযোগ ধরে রেখেছে।