ইউরোপীয় ফুটবলের অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের আধিপত্য নতুন কিছু নয়। তবে সদ্য সমাপ্ত গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে ইংলিশ ক্লাবগুলো অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। মঙ্গলবার রাতে উইন্ডো বন্ধ হওয়ার পর দেখা গেছে, লিগের ২০টি ক্লাব খেলোয়াড় কিনতে সম্মিলিতভাবে খরচ করেছে ৩৪৬ কোটি পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৭ হাজার ২০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকারও বেশি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে কোনো ট্রান্সফার উইন্ডোতে এটি সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড। গত বছর এই খরচের পরিমাণ ছিল ৩১৪ কোটি পাউন্ড, যা মাত্র ১২ মাসের ব্যবধানে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।
দলবদলের শেষদিনে এভারটন থেকে ইলিমান এনদিয়ায়ে ৬ কোটি পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলে খরচের পুরোনো রেকর্ডটি ভেঙে যায়। এরপর সিটি চেলসি থেকে এনজো ফার্নান্দেজকে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে টেনে ব্রিটিশ ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে। শুধু শেষদিনেই লিগের ক্লাবগুলো মোট ৪৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। পাঁচ বছর আগেও গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লিগটির মোট খরচ ছিল ১১৩ কোটি পাউন্ড, অর্থাৎ বর্তমান খরচ সেই সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি ট্রান্সফারের তিনটিই ঘটেছে এবারের গ্রীষ্মে এবং প্রতিটিই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর মাধ্যমে। লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে খরুচে পাঁচটি দলবদলের চারটিই এই উইন্ডোতে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে এনজোর ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের পাশাপাশি নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে দলে ভেড়ায় ম্যান সিটি। এছাড়া চেলসি অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্সকে ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে এবং লিভারপুল পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে ১০ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে চুক্তিবদ্ধ করে। টটেনহ্যাম হটস্পার নিউক্যাসল থেকে সান্দ্রো তোনালিকে দলে নেয় ১০ কোটি পাউন্ডে।
ম্যানচেস্টার সিটি নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে দল পুনর্গঠনে রেকর্ড ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে, যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে কোনো একটি ক্লাবের সর্বোচ্চ খরচের রেকর্ড। তবে খেলোয়াড় বিক্রি করে তারা ৩০ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড আয়ও করেছে। চেলসি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড খরচ করলেও ৩৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের খেলোয়াড় বিক্রি করে ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড লাভ করেছে। এছাড়া টটেনহ্যাম তাদের স্কোয়াড শক্তিশালী করতে ৩০ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করেছে।
ছোট ও নতুন উঠে আসা ক্লাবগুলোও এবারের বাজারে চমক দেখিয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে নতুন আসা ইপসউইচ টাউন ১৭ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস এমনকি পিএসজির খরচের চেয়েও বেশি। লিগের ২০টি ক্লাবের মধ্যে ১১টিই তাদের নিজেদের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড ভেঙেছে। এর মধ্যে ছয়টি ক্লাব একাধিকবার এই রেকর্ড ভেঙেছে। এমনকি কভেন্ট্রি সিটি চারবার তাদের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের কীর্তিটি টিকল মাত্র ১২ মাস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রেকর্ড ছুঁয়ে ২০৭৪ কোটি টাকায় ম্যান সিটিতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার এনজো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বছর এই অঙ্ক ছিল ৩৯ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউরোপিয়ান ফুটবলে প্রিমিয়ার লিগের অর্থনৈতিক শক্তির কথা কারও অজানা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শীর্ষ ফুটবলারদের নিজেদের লিগে টেনে আনার ক্ষেত্রে ইংলিশ ক্লাবগুলোর একচ্ছত্র প্রভাবকেই এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তির অন্যান্য শর্ত অনুসারে আরও ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড খরচ হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রিমিয়ার লিগের বাইরে কেবল দুটি ট্রান্সফার ফির অঙ্ক ৬ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়েছে— আরবি লাইপজিগ থেকে ইয়ান দিওমান্দেকে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং নিউক্যাসল থেকে অ্যান্থনি গর্ডনকে টেনেছে বার্সেলোনা।