বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে, তবে এবার ফ্যাসিবাদীদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের চোখ রাঙানি সহ্য করা হবে না এবং যেখানেই বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বিদ্যুৎ-সংকট ও জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে এবং সংসদে বিদ্যুৎ থাকলেও সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন বড় বড় গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে। তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের ঠিকানা এবং আমরা তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি সুন্দর দেশ তুলে দিতে চাই।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। র্যাব বিলুপ্ত না করে নতুন নামে ফিরিয়ে আনা এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ১১-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হলে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বর্তমান সরকারের আত্মবিশ্বাস নেই এবং তারা গণভোটের রায় মানছে না। তিনি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে জোর করেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন যে, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট চলছে এবং বিএনপি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। তিনি দাবি করেন, অদক্ষ ব্যক্তিদের মন্ত্রী বানানো হয়েছে এবং বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা নেই। তিনি ঘোষণা দেন, দাবি না মানলে ছয় দফার এই আন্দোলন ভবিষ্যতে এক দফায় রূপ নেবে।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি সংবিধান সংশোধনের নামে হাইকোর্ট দেখানোর সমালোচনা করে বলেন, বিগত সময়ে সংবিধান সংশোধনের পর তা ১৭ বার বাতিল হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। মজিবুর রহমান বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হলো এবং প্রতিটি কর্মসূচি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের নামে পরিচালিত হবে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, তেল দিতে না পারলে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নিন। এছাড়া এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের পকেট কাটার অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়, যা চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১১-দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ করা। লংমার্চ ও পথসভার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন যাঁরা নতুন করে ফ্যাসিবাদ শুরু করবেন, তাঁদের ১৫ বছর আর অপেক্ষা করতে হবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ছয় মাসে শাপলা চত্বরে গণহত্যা, পিলখানার হত্যার মতো বড় বড় গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি দুর্নীতি করলে দেশের মানুষ ছাড় দেবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাসিনা চলে গেলেও এ সরকার তাদের আদলে দেশ চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর ডাকে ভবিষ্যতে সকল আন্দোলন–সংগ্রামে আপনারা পথে নেমে আসবেন বলে আশা করছি।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে লাখ টাকা নিয়ে তাদের নেতাদের জামিন করাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের নয়, শহীদ ওসমান হাদির বাংলাদেশ হবে।