সৌদি আরবের আবহা শহরে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ। গত সোমবার তাঁর মৃত্যুর পর থেকে মরদেহটি সেখানকার একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সোহাগের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী আমেনা বেগম, দুই মেয়ে, মা রৌশন আরা বেগমসহ স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সোহাগের বোন রোকসানা আক্তার জানান, তাঁর বাবা রফিক উদ্দিনও সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। ২০০৩ সালে সৌদি আরবেই বাবার মৃত্যু হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। বাবার মতো ভাইয়ের মরদেহও যেন বিদেশে দাফন করতে না হয়, সেই আকুতি জানিয়েছেন রোকসানা। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ২৩ বছর আগে সৌদি আরবে মারা গিয়েছিলেন, তাঁর মরদেহ দেশে আনতে পারিনি। এখন ভাইয়ের ক্ষেত্রেও একই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই সরকার যেন দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে, যাতে আমরা শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে পারি।’
২০১৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সোহাগ। ২০২১ সালে সর্বশেষ তিনি দেশে এসেছিলেন এবং ওই বছরই পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যান। সোহাগের বড় মেয়ে ফাতেমা জাহান ইকরার বয়স ১০ বছর। ছোট মেয়ে উম্মে জামিলা ঈশার বয়স পাঁচ বছর। সোহাগ যখন সর্বশেষ সৌদি আরবে ফিরে যান, তখন ঈশা তাঁর মায়ের গর্ভে ছিল। ফলে পাঁচ বছর বয়সী মেয়েটি বাবাকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ পায়নি। এখন বাবার মরদেহ দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে শিশুটি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোহাগের আকামার মেয়াদ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদও উত্তীর্ণ হওয়ায় তিনি বেশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এসব নথিপত্র নবায়ন করতে না পারার দুশ্চিন্তার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এখন পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে সোহাগের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে এলাকার কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়।