মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ আরও অন্তত ছয় মাস চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা। তিনি মনে করেন, এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো কার্যকর পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যানেটা বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় সিআইএ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে এমন এক ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকে আছে, যেখান থেকে বের হওয়ার বিকল্প পথ অত্যন্ত সীমিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কোনো ধরনের সমাধান ছাড়াই এই সংঘাত আরও ছয় মাস দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
পেন্টাগনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্যানেটা বলেন, সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিরোধ কমান্ড কাঠামোয় ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। এমন এক সময়ে মার্কিন সেনাসদস্যরা যুদ্ধে লিপ্ত, যখন পেন্টাগনের ভেতরেই নেতৃত্বের সংকট স্পষ্ট।
সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিপক্ষরা এখন ওয়াশিংটনের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। পেন্টাগনের এই অস্থিরতা প্রতিপক্ষদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দুর্বলতার বার্তা দিচ্ছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হেগসেথের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগ পুরোদমে কাজ করছে এবং বিভাগে বিশৃঙ্খলা চলছে বলে যে ধারণা দেওয়া হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তার মতে, যেসব পরিবর্তনকে বিশৃঙ্খলা মনে হচ্ছে, সেগুলো মূলত দাপ্তরিক সংস্কারের অংশ।
প্যানেটার মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, যুদ্ধ থেকে সরে এসে ব্যর্থতা স্বীকার করা, যা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন। দ্বিতীয়ত, বর্তমান অচলাবস্থা বজায় রাখা, যেখানে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাবে কিন্তু কোনো পক্ষই আলোচনায় বসবে না। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া, যা ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারকে অকার্যকর করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের উচিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন থেকে শিক্ষা নেওয়া। জাহাজটি ২৬০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নিয়োজিত ছিল। এমন দীর্ঘ মোতায়েন সেনাসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা নিয়ে পেন্টাগনের ভাবা উচিত।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্যানেটা জানান, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে জড়ানোকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে প্যানেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান লক্ষ্য হওয়া উচিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং তিনি নিজেই নিজের জন্য বের হওয়ার পথ কঠিন করে ফেলায় এই যুদ্ধ শেষ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধের শেষ কোথায়, তারও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর মতো বিকল্প এখন সত্যিই খুব কম।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর কয়েক দিন পর গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দেন প্যানেটা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একাধিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের খবরের মধ্যে ড্রিসকল দায়িত্ব ছাড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেন, ‘এমন এক সময়ে মার্কিন সেনাসদস্যরা যুদ্ধে যাচ্ছেন, যখন পেন্টাগনে, কমান্ড কাঠামোয় ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্যানেটা বলেন, ‘ইরান হোক কিংবা আমাদের অন্য প্রতিপক্ষ, তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে দৃষ্টি রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা দেখছে, নিজেদের রক্ষায় সামরিক শক্তি কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও সন্ত্রাসবাদের দিক থেকে আমাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি রয়েছে।