চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত স্টোরম্যান মাহবুবুল বশর চৌধুরী ও নুর বেগমের একমাত্র ছেলে আরশাদ উল্লাহ মাহিন (১৮) সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। দুই বোনের পর জন্ম নেওয়া আরশাদ ছিলেন পরিবারের সবার চোখের মণি। গত বুধবার দুপুরে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আরশাদসহ মোট ৯ জন আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুহাম্মদ এরশাদ (৩৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গুরুতর আহত আরশাদকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ দিন পর তার মৃত্যু হয়। সোমবার রাত ১০টায় আরশাদের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে আরশাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা মাহবুবুল বশর ও মা নুর বেগম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবা মাহবুবুল বশর জানান, ঘটনার দিন দুপুর ১২টায় পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরশাদ বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। জোহরের নামাজ শেষে ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। হাসপাতালে গিয়ে দেখেন ছেলের শরীর রক্তে ভেজা। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে তিনি তার অবসরকালীন ভাতা ও জমানো সব টাকা মিলিয়ে ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুকের ধনকে বাঁচাতে পারেননি।
আরশাদের চাচাতো ভাই ও ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ফারুক জানান, মাহিনের চিকিৎসায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বড় দুই বোনের বিয়ের পর আরশাদই ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র ভরসা। তার অকালমৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। আরশাদ হাটহাজারী কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
আরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার শিক্ষকরা। হাটহাজারী সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. আবু তালেব জানান, আরশাদ তাদের কলেজের একজন মেধাবী পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষক ও সহপাঠীরা গভীরভাবে শোকাহত। এ ধরনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনিক নজরদারি ও ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবা-মায়ের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন আরশাদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই ছেলেকে এভাবে হারাবেন, তা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মাহবুবুল বশর ও নুর বেগম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কখনো বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন তাঁরা, কখনো কাঁদতে কাঁদতেই মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন মাহবুবুল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই মেয়ের স্বামীই সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেয়েদের বিয়ের পর ছেলেই কাছে ছিল তাঁর।