1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চার বছরেও শেষ হয়নি শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ১০৭ কোটি টাকার আধুনিকায়ন প্রকল্প কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ ছাড়: সাশ্রয়ী মূল্যে মিলছে ইকোনমি ও বিজনেস ক্লাসের টিকিট আমদানি কমিয়ে দেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: নতুন রাজনীতি নাকি পুরোনো রাবণের শাসন? কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধে ভাই নিহত: এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি গফরগাঁওয়ে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত: ছয় ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ ও আদানির কেন্দ্র সচল হলেও কমছে না লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি দর্শনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্ট আটক ঢাকা সিটি নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসিফ ও নাসীরুদ্দীনের নাম ঘোষণা বেড়ে চলা বিমান ভাড়ার নেপথ্যে কর, জ্বালানি খরচ ও রানওয়ে জট

গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ ও আদানির কেন্দ্র সচল হলেও কমছে না লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সোমবার থেকে দেশে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি জটিলতায় বন্ধ থাকা আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট গতকাল পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। তবে এতদসত্ত্বেও বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসতে আরও সময় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেশের তিনটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেক বা তার চেয়েও কম হারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ চালিয়ে যেতে পারছে না এবং দৈনন্দিন রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবহনেও ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যত দিন গড়াবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির তত উন্নতি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলোতে কারিগরি ত্রুটি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালো থাকত।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল সরবরাহ করা হয়েছে ২৩৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস, যার ৭৫ কোটি ঘনফুট এসেছে এলএনজি থেকে। সোমবার থেকে এলএনজির সরবরাহ বাড়িয়ে ৯৩ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে মোট সরবরাহ ২৫৫ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াবে এবং এতে শিল্প খাতের সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, বিশ্ববাজারে এলএনজি কার্গোর সরবরাহ কম থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ক্রমাগত কমছে। ঘাটতি মোকাবিলায় ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি গত ২১ জুলাই দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদিও ১৫ আগস্ট থেকে তা আবার সচল হয়েছে, তবে নতুন এলএনজি কার্গো আসার হার কম হওয়ায় সরবরাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ানো যাচ্ছিল না। চলতি বছর জুলাই-আগস্ট সময়ে যেখানে ২১টি কার্গো আসার কথা ছিল, সেখানে এসেছে মাত্র ১৫টি। সেপ্টেম্বরে ১০টি কার্গো আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৯টি নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও শীতকালীন চাহিদাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ছয় মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এর দাম প্রতি ইউনিট ২৮ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি এলএনজি আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলোর কারিগরি জটিলতার কারণে। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বুধবার রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছিল। গতকাল দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় ইউনিট চালুর মাধ্যমে উৎপাদন শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তা ১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। ঠিক একই সময়ে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। রামপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রটি পুনরায় পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে চার দিন সময় লাগতে পারে।

পটুয়াখালীর দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রও সংকটের বাইরে নেই। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় এখন সেখানে ৫৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার অপর কেন্দ্রটিতে কয়লার অভাবে উৎপাদন ৪০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই দুটি কেন্দ্র মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা থেকে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবার রাত ১২টায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রগুলো টানা সচল থাকায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমানে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতির কিছুটা সামাল দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিল্পসহ সব খাতের গ্রাহকের গ‍্যাস বাড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এলএনজির কার্গো আমদানি কমায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে ৯ বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun