1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফেরত না পাওয়ায় সৌদির প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান স্টেডিয়ামের কাজ পেল কাতার সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে সরকার ভারতে বিশ্বকাপ বর্জন ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত: আসিফ নজরুল টেকনাফ উপকূলে মালয়েশিয়াগামী ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে ধরতে বিশেষ টিম কাজ করছে গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি বোয়িং থেকে আরও বিমান কেনার পরিকল্পনা সরকারের

সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন দাবি করেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন পরবর্তী সময়ে পুঞ্জীভূত সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা কঠিন। তবে বাস্তবতা হলো, গত সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা নির্যাতনে মৃত্যুর মতো অমানবিক ঘটনা এ সময়ে পরিলক্ষিত হয়নি। অতীতে সরকারি বিভিন্ন কার্যালয় থেকে বিরোধী মতের মানুষদের তালিকা করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো, যা বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোতে যদি স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তা দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে সরকার এখন মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বড় ইতিবাচক পরিবর্তন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। এই আন্দোলনের ফসল আজকের মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও প্রাণ হারিয়েছেন।

আইন প্রণয়ন ও সংশোধন প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা ১০০টিরও বেশি অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনগুলো প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, আইন যেন জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত হয় এবং যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চান তাদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, আইনের সংখ্যার চেয়ে এর সঠিক ও মানবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের সরকার সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন মন্তব্য বা আচরণ করা হলেও সরকার সর্বোচ্চ পরমসহিষ্ণুতা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ করছে।

দেশের গণতান্ত্রিক বিবর্তনের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাকশালের পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক পথে ফিরেছে।

সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করতে ও বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে আসীন করতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের ভিন্ন মত, পথ, ভিন্ন আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মূল্যবোধকে হরণ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে যখন একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে, তখন আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণ করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক ও অবিচল থাকতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun