পবিত্র মক্কাকে রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বকে হুতিদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইয়েমেনের হুতি নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতি। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুতিরা পবিত্র মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তবে এই অভিযোগকে সরাসরি ‘ভয়াবহ মিথ্যা’ এবং ‘সৌদি প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। আল-হুতি এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেন, মক্কার পবিত্রতা রক্ষা ইয়েমেনের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌদি আরব নিজেদের সংকীর্ণ যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে মক্কার নাম ব্যবহার করছে। তিনি সৌদি আরবকে ‘নিপীড়নের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে পুরো মুসলিম বিশ্বকে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইয়েমেনের হুতি নেতা দাবি করেন, সৌদি আরবের এই ‘আগ্রাসনের’ বর্তমানে ১২তম বছর চলছে। তার ভাষ্যমতে, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি সামরিক অভিযানের মাধ্যমেই সংঘাতের বর্তমান পর্বের সূত্রপাত হয়েছিল, যা পরে মোখা, ধুবাব ও বাব আল-মান্দেবের দখলসহ নানা ঘটনার জন্ম দেয়। আল-হুতি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি আরবের সামরিক কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধন রয়েছে, যারা রিয়াদকে কঠোর নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য করছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি অবশ্য নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে হুতিদের একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি জোট মক্কা ও দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে। হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এবং সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি উভয়ই পবিত্র শহর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের হামলায় ইয়েমেন সরকারের অন্তত ২৩ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং পাল্টা সৌদি হামলায় ৪০ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া তায়েফ গভর্নরেটে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন ইয়েমেনি নাগরিক নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। হুতিদের দাবি, সৌদি বিমান হামলায় ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে টেলিযোগাযোগ টাওয়ারসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেসামরিক প্রাণহানি ঘটেছে।
কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে, যা দিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ করা হয়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব চীনের সহযোগিতা কামনা করেছে। চীন যদিও প্রকাশ্যে শান্তি ও নিরাপদ নৌ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে, তবে ইরানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সৌদি দূতাবাসের ভাষ্যমতে, এই চুক্তিটি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতিফলন, যার মূল লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মক্কা ইস্যুসহ চলমান এই সংঘাত এখন ইয়েমেন ছাড়িয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর মোখা দখল এবং আনসার আল্লাহর অগ্রযাত্রার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার দাবি, বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের কর্মকাণ্ড মূলত এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অংশ, যে ইয়েমেনকে নিপীড়ন ও অধীনস্থ করে রাখতে চায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েকটি ভবন ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোষ্ঠীটি সম্প্রতি মক্কা ও বাব আল-মান্দেবের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলো দখলে নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সেখানে হুতিদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।