জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে শেষবারের মতো ভাষণ দিলেন আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি শান্তি, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছেন। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি নবম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গুতেরেসের এই মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, আগামী বছরের শুরু থেকে আর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন না করলেও সারা জীবন তিনি শান্তির পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন।
বর্তমান বিশ্বের অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুথিদের তৎপরতায় নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বিরাজমান উত্তেজনার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। পশ্চিম তীরে যেকোনো ধরনের সংযুক্তিকরণমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ মেনে টেকসই শান্তির পথ খোঁজার তাগিদ দেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে তিনি একটি বহুপক্ষীয় ও স্বাধীন তদারকি কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন। গুতেরেসের মতে, প্রযুক্তির বিকাশের গতি যে হারে বাড়ছে, তার ঝুঁকিগুলো বোঝার সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়ছে না। তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি নির্মাতা দেশগুলোকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো দেশের স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপে এই ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
জলবায়ু সংকটকে বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য অন্যতম দায়বদ্ধতার জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট বলেন, যারা পরিবেশ দূষণ করছে, তাদেরই এর দায়ভার বহন করতে হবে। এছাড়া জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যমান বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতের ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রেখেছে, যা বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিউ ইয়র্কের এই সম্মেলনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা যোগ দিলেও চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধানদের অনুপস্থিতিতে গুতেরেসের ভাষণের প্রেক্ষাপট ছিল বেশ আলোচিত। গত ১০ বছরে পাশে থাকার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুতেরেস জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থার কথাও তুলে ধরেন, কারণ নিউইয়র্কে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা সমবেত হলেও এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং জার্মানির নেতারা এই কূটনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে গেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রসঙ্গ টেনে গুতেরেস বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুথিদের অগ্রগতির ফলে নৌ-পরিবহন রুট হুমকিতে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১০ বছর ধরে পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আগামী ১ জানুয়ারি যখন আমি আর মহাসচিব থাকব না, তখন এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন; আমি যেখানেই থাকি না কেন, যাই করি না কেন; শান্তি যে সম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস তার ভাষণে দ্রুত ক্রমবর্ধমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এআই ব্যবহারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘যেসব দেশ এআই প্রযুক্তির বিকাশে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের উদ্ভূত নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য ভাগাভাগি করতে হবে এবং প্রযুক্তির পরীক্ষা ও মূল্যায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তিনি উত্তেজনা হ্রাস ও আলোচনার ওপর জোর দেন।